নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির সুযোগ প্রথম কার্যকর হচ্ছে কলেজ সার্ভিস কমিশনে (সিএসসি)। সোমবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এক বিজ্ঞপ্তি মারফত জানান, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ করা হল। বয়সের ভিত্তি হবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি। সিএসসির মাধ্যমে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি (১/২০২৬) ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে। বয়সের সুবিধাগ্রহণে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে একমাস। অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে বয়সের সীমা বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থদপ্তর। বয়স প্রতি ক্ষেত্রে পাঁচবছর বাড়িয়ে গ্রুপ এ পদে ৪১, গ্রুপ বি-তে ৪৪ এবং গ্রুপ সি এবং ডি পদের জন্য ৪৫ করা হয়েছে। আরো বলা হয়, অন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা, স্বশাসিত সংস্থা যেখানে পিএসসি ছাড়া অন্যকোনো সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ হয়, সেখানে এখন থেকে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এই ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদনের বয়স বাড়ল। এসসি, এসটি, ওবিসি এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বয়সের অতিরিক্ত ছাড় নিয়মমাফিকই চালু থাকবে।
সরকারি দপ্তরে এবং কিছু সংস্থায় বিভিন্ন স্তরে কর্মী ও অফিসার নিয়োগ হয় পিএসসির মাধ্যমে। চলতি জমানায় পিএসসির পদে কোনো পরিবর্তন হয়নি। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার নিযুক্ত চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা স্বপদেই বহাল এখনো। সরকারি সূত্রের খবর, পিএসসিতেও বড়ো পরিবর্তন হতে চলেছে। সংস্থারটির শীর্ষ পর্যায় নতুন করে গঠিত হবে। তবে তার জন্য আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে। এর অন্যতম কারণ আগামী মাসের শুরুতেই রাজ্য ডব্লুবিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এটি একটি বড়ো পরীক্ষা। রাজ্যজুড়ে বহু সেন্টারে অনেক পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসবেন। পরীক্ষার আগে সম্ভবত পিএসসিতে শীর্ষ পর্যায়ে কোনো পরিবর্তন করতে চাইছে না সরকার।
বিগত জমানায় পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে মাঝে মাঝে অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস অফিসার দেবল রায় এখন সংস্থার চেয়ারম্যান। তাছাড়া সদস্য আছেন চারজন। সদস্যদের মধ্যে একজনকে (তিনি সরকারি অফিসার বা অবসরপ্রাপ্ত অফিসার নন) নিয়ে নির্বাচনি প্রচারের সময় বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি নাকি ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পূর্ববর্তী সরকার স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি) নতুন করে গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। একজন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিককে এসএসসির শীর্ষপদে বাসানো হয়। অন্য দপ্তর থেকে কর্মী আনা হয় ডেপুটেশনে। এসএসসি অবশ্য কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। প্রথম পর্যায়ে সরকারি অফিসে ও সরকারি সাহায্যে চলা সংস্থাগুলিতে গ্রুপ ডি পদে কর্মী নিয়োগ এসএসসি করবে এমন পরিকল্পনা ছিল আগের সরকারের। পূর্ববর্তী সরকার গ্রুপ ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ড নামেও একটি সংস্থা তৈরি করেছিল। যদিও সেটি পরে তুলে দিয়ে ফের এসএসসসি গঠন করেছিল। এসএসসির বিষয়ে এখন বিজেপি সরকার কী করবে, তার উপর নজর রাখছে প্রশাসনিক মহল।
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। ২০১১ সালের ডব্লিউপিও ৬০ এবং সংযুক্ত মামলাগুলিতে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ২০২৪ সালের ২২ মে’র রায় অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরি ও পদগুলিতে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের হার, রাজ্য তালিকায় উপ-শ্রেণিবিন্যাস বাতিল এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর রাজ্য তালিকার সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।