সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: এতদিন ধারণা ছিল, প্রতিবেশী বাংলাদেশ কিংবা মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভারত বোধহয় শুধুই রেডিমেড গার্মেন্টস বাণিজ্য ও রপ্তানিতেই প্রতিযোগিতায় আছে। কিন্তু গত এক বছরে দেখা যাচ্ছে, জোর প্রতিযোগিতা চলছে অন্য একটি সেক্টরেও—ডলারের বিনিময় মূল্য। পতন অব্যাহত। মে মাসের পর এক ডলারের মূল্য ফের ছাপিয়ে গিয়েছে ৯৬ টাকা। দ্রুত ১০০’র দিকে ছুটে চলেছে ডলারের দাম। আন্তর্জাতিক আর্থিক সমীক্ষক ও রেটিং সংস্থাগুলি সাফ জানাচ্ছে, আর্থিক বৃদ্ধিহার, রপ্তানি হারের উন্নতি ঘটলেও আগামী দিনে টাকার পতন ও বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে সংকট থেকেই যাবে। অর্থাৎ, উদ্বেগ কমার নয়। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে ভারতীয় মুদ্রা অর্থাৎ টাকার পতন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের। এশিয়ার মধ্যে ভারতীয় টাকার পতনই সর্বাধিক। এমনকি, ডলারের নিরিখে এই এক বছরে বাংলাদেশি মুদ্রার পতনও এতটা হয়নি। ভালো পারফরম্যান্স মালয়েশিয়ারও। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপান তো আলোচনাতেই আসে না। তাৎপর্যপূর্ণ হল, বাংলাদেশি টাকা বেশ কয়েক মাস ধরে নিজের মূল্য কমবেশি ধরেই রেখেছে। ১২১ থেকে ১২৪ বাংলাদেশি টাকার মধ্যেই থাকছে এক ডলারের মূল্য। ২০২৬ আর্থিক বছর শুরু হওয়ার সময় দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশি টাকার পতন পূর্ববর্তী এক বছরের সময়সীমায় খুব বেশি হলে দেড় শতাংশ। পক্ষান্তরে ভারতীয় মুদ্রার পতন হয়েছে ২০২৫ সালের তুলনায় ৫ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান, মালয়েশিয়ার মুদ্রা তো ডলারের নিরিখে ২০২৬ সালে উন্নতিই করেছে। তাইওয়ান, ফিলিপিন্সের মুদ্রার পতন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই হারও ভারতের মতো নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় মুদ্রার ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৯ টাকা। সেটাই অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে হয়েছে প্রায় ৯৭ টাকা।



