অনুমোদন বা খারিজ কোনোটাই করা হয়নি  সংশোধিত ফর্ম ৬ নিয়ে ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টের
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: নতুন ভোটারদের নাম তোলার ফর্ম ৬-এ সংশোধন কার নির্দেশে? কে নিয়েছিল সিদ্ধান্ত? বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামত সত্যিই অগ্রাহ্য করেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার? ফর্ম ৬-এ নতুন ভোটারদের ‘স্বঘোষণা’ বা সেল্ফ ডিক্লারেশন (মা-বাবার সঙ্গে পূর্বের এসআইআরের ম্যাপিং সংক্রান্ত) জুড়ে দেওয়ার সেই বদলে কি আদৌ সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছিল? এই ইস্যুতে ধন্দ ও ধোঁয়াশার আবহে সোমবার এল শীর্ষ আদালতের ব্যাখ্যা। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলল, ফর্ম ৬-এ কমিশনের সংশোধনীর বিষয়টি বৈধ কি না, আদালত তা এখনও বিচারই করেনি। বিহারের এসআইআর মামলা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এই নতুন ফর্মটি আদালতের সামনে আসেনি। ফলে সংশোধিত ফর্মটিতে সুপ্রিম কোর্ট না দিয়েছে অনুমোদন, না তা বাতিল করেছে। উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাজকর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করে নতুন একটি রিট পিটিশন পেশ করেছেন প্রিয়া মিশ্র নামে একজন। এদিন শুনানি চলাকালীন তাঁর আইনজীবী বিতর্কটি উত্থাপন করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। তার ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালতের এদিনের এই মৌখিক মন্তব্য।

Advertisement

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘ফর্ম ৬’-এ  বদলকে ‘বেআইনি’ বলে আপত্তি তুলেছিলেন দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তোয়াক্কা করেননি জ্ঞানেশ কুমার। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানায়, মে মাসে বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ফর্ম ৬-এর নতুন ‘ডিক্লারেশন’ বহাল রেখেছিল। যদিও ৫ অক্টোবর শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ফর্ম ৬-এর কোনো সংশোধনীতে আদালত অনুমোদন দেয়নি। এই দুই বিবৃতির উল্লেখ করে আইনজীবী আদালতের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার আর্জি জানান। এব্যাপারে বিচারপতি বাগচী বলেন, নয়া ফর্ম ৬ সংক্রান্ত ইস্যুটি আদালত এখনও বিচারই করেনি। আমরা শুধুমাত্র এটুকুই বলেছিলাম। বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যখন শুনানি হয়েছিল, তখন নতুন ফর্ম ৬-এর অস্তিত্বই ছিল না। প্রধান বিচারপতি একথাই বলেছিলেন। ফলে সুপ্রিম কোর্ট না অনুমোদন দিয়েছে, না তা বাতিল করেছে।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত অন্যান্য আবেদনগুলির সঙ্গেই নতুন আবেদনটিও একসঙ্গে শুনানি হবে আগামী ২৭ অক্টোবর।