শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: তখনও দেশভাগ হয়নি। ফরিদপুরে বাস করত গুহ পরিবার। ১৮৮২ সালের এক রাতে রসিকলাল গুহের স্বপ্নে এসেছিলেন মহাদেব। জানান, বাড়ির পাশের পদ্মার শাখা নদীতে তিনি রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুজো করার নির্দেশ দেন শিব। ঘুম ভাঙার পর স্বপ্নকে উপেক্ষা করেননি রসিকলাল। ছুটে যান নদীর কাছে। সেখান থেকেই উদ্ধার করেন শিবের মূর্তি। দশভুজার আরাধনা। প্রায় ১৪৪ বছর পরেও সেই পুজো চলছে। শুধু বদলে গিয়েছে ঠিকানা। দেশভাগের পরে পরিবারের সদস্যরা চলে আসেন এপার বাংলায়। বারাসতে। সঙ্গে চলে আসে তাঁদের পুজোও। সেই পুজো চলছে। রয়েছে তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক টুকরো পুরানো বাড়িও। দেবীর কাঠামো এখনও শাল কাঠের। ফরিদপুরে যে চৌকির উপরে প্রতিমাকে বসানো হত, সেই চৌকির আদলও বদলায়নি। পুজোয় ব্যবহৃত কাঁসার ঘট ও বাসনও পুরানো রীতিতেই রয়েছে। পরিবারের দাবি, ফরিদপুরের সেই পুজোর সঙ্গে যে সামগ্রী ও রীতি জড়িয়ে ছিল, তা আজও যত্ন করে ধরে রাখা হয়েছে। এই পুজোর সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্য হল, এখানে উমা মেয়ে। শীতলপাটির উপরে বসানো হয় তাঁকে। একচালা প্রতিমা। পাশেই অধিষ্ঠান করেন দেবাদিদেব মহাদেব। আর ভোগের আয়োজনেও ঘরোয়া আবেগ। পুজোয় ভোগ নিরামিষ। সপ্তমীতে পঞ্চব্যঞ্জনে অন্নভোগ। অষ্টমীতে পোলাও। নবমীতে খিচুড়ি। দশমীর ভোগে রয়েছে এমন এক রীতি, যা এই বাড়ির পুজোকে আলাদা করে চেনায়। বিসর্জনের আগে দেবীকে দেওয়া হয় পান্তা ভাত। তার জন্য সকালে আতপ চাল ভিজিয়ে রাখা হয়। দুপুরে পাথরের থালায় সেই ভেজা চালের সঙ্গে মেশানো হয় গন্ধরাজ লেবু। সঙ্গে থাকে মানকচু সেদ্ধ। সেই পান্তা, মানকচু আর গন্ধরাজের গন্ধেই যেন শেষ হয় বাপের বাড়িতে উমার কয়েক দিনের থাকা। মেয়েকে বিদায়ের আগে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া ঘরের খাবার। সামনে রাখা হয় একটি বিশাল জলভর্তি কলসি। তার নাম ‘জলাধার’। বিসর্জনের আগে সেই জলে দেবীর পায়ের প্রতিচ্ছবি দেখার রীতি রয়েছে। তারপর সন্ধ্যায় শুরু হয় বিদায়ের পালা। পরিবারের সদস্য সুমিত গুহ বলেন, ফরিদপুরের কাঠামো, চৌকি, বাসন একইভাবে আজও ব্যবহার করা হয়। নিজস্ব চিত্র



