নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘পুলিশের গায়ে হাত পড়লে, ফল হবে ভয়াবহ।’ মহালয়ার সকালে বিগ্রেডের মঞ্চ থেকে আরও একবার এই সতর্কবার্তা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি পার্ক সার্কাসে (নিউ পার্ক স্ট্রিট) পুলিশের উপর হামলা এবং আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসানসোলে হামলায় জড়িতদের থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করা হয়েছে।
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান হেল্পলাইন’ বা ‘প্যান ইন্ডিয়া হেল্পলাইনের অঙ্গ হিসেবে এদিন গোটা রাজ্যে ‘ডায়াল ১১২’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। এদিন পতাকা নেড়ে ৪৫০ এসইউভি গাড়ি এবং ৪৫০টি বাইকের যাত্রার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘এমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম’ বা ‘ইআরএসএস’ প্রকল্পে কাজ করবে এই গাড়ি এবং বাইকগুলিতে। এখন থেকে যে কোনও ধরণের বিপদে এই ১১২ নম্বরে ফোন করলে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ পৌঁছে যাবে। পুলিশ ১০ মিনিটে পৌঁছতে না পারলে, সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীকে বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়তে হবে। গত ৬ অক্টোবর ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দা। যদিও গোটা দেশে এই ডায়াল ১১২ অনেক আগেই চালু হয়েছে। কিন্তু বিগত তৃণমূল সরকারের সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই প্রকল্প কার্যত থমকে ছিল এরাজ্যে। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরপরই গতি পেয়েছে এই প্রকল্প। এখন থেকে যে কোনও ধরণের বিপদে রাজ্যবাসী এই ডায়াল ১১২ নম্বরে ফোন করে সাহায্য পাবেন। আমেরিকার ‘৯১১’ হেল্পলাইনের ধাঁচে কেন্দ্রীয় সরকারের গোটা দেশে এই প্রকল্প চালু করেছে। উল্লেখ্য, তৃণমূল আমলে ২০১১ সাল থেকে প্রায় একযুগের বেশী সময়, পুলিশে নিয়োগ বন্ধ ছিল। শুধু সিভিক নিয়োগ করে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হয়েছে। বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই ওবিসি জট কাটিয়ে রাজ্যে পুলিশে নিয়োগ শুরু হয়েছে। পুজোর আগেই আগামী শুক্রবার ১১ হাজার সদ্য নিযুক্ত কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।



