Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬

এসআইআর ইস্যুতে হাইকোর্টে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল কমিশন, নাম যদি বাদই যায় তাহলে এর প্রয়োজন কী?

প্রত্যেক নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অথচ নাগরিকদের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

এসআইআর ইস্যুতে হাইকোর্টে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল কমিশন, নাম যদি বাদই যায় তাহলে এর প্রয়োজন কী?
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: প্রত্যেক নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অথচ নাগরিকদের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য কী? সোমবার এই প্রশ্নে কমিশনকে বিঁধল বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, ‘নাগরিকদেরই যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে এসআইআর দিয়ে আমরা কী করব?’

Advertisement

ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ফর্ম ৮ জমা দেওয়ার পর তা খারিজ হয়ে যাওয়ায় একই পরিবারের ছয় সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া এক মামলার শুনানি ছিল হাইকোর্টে। শুনানিতে বিচারপতি অমিত এস জামসান্দেকর এবং বিচারপতি বাল্মীকি মেনজেসের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, কোনো ব্যক্তি যদি জানান যে, তিনি বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন এবং ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ফর্ম ৮ জমা দেন, তা হলে কমিশন তাঁকে বলতে পারে না যে তাঁর বক্তব্য শোনা হবে না। এ প্রসঙ্গে ১৯৬০ সালের ইলেকটোরাল নিয়মের উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, ‘সব কিছুই বর্তমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতে দেখতে হবে। তা না হলে ভোটারের সামনে কোনো পথই খোলা থাকবে না।’ বেঞ্চ জানায়, কেউ ফর্ম ৬ দিলে সেটি মিথ্যা ঘোষণা হবে। আবার ফর্ম ৮ দিলে বলা হচ্ছে, সেটি গ্রহণ করা যাবে না। তাঁকে ইনিউমারেশন ফর্মই দিতে হবে। কিন্তু তিনি যদি বলেন, ইনিউমারেশন দিতে চাই না! তাহলেও নিয়ম অনুযায়ী তাঁর নাম বাদ দেওয়ার আগে তাঁর বক্তব্য শুনতে হবে বলেই সাফ জানায় আদালত। উল্লেখ্য, মামলাকারী পরেশ সালগাঁওকর এবং তাঁর পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য প্রায় আট বছর আগে ঠিকানা বদলান। নতুন বাড়ি একই বিধানসভার মধ্যে ছিল। ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য তাঁদের ফর্ম ৮ জমা দিতে বলেন বিএলও। তাঁরা সেই আবেদন করলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি কারণ ওই পরিবারের নামই তালিকায় ছিল না। কিন্তু মামলাকারী জানান, ভোটার তালিকায় তাঁদের নামই ছিল না। ফলে তাঁদের ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে আবেদন সম্ভব নয়। ফলে একমাত্র পথ হিসাবে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে কমিশন জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে তাঁদের ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপ করতে হত। এই যুক্তিতে আপত্তি জানিয়ে আদালত বলে, ইনিউমারেশন ফর্মে ভোটারকে ঘোষণা করতে হয় যে তিনি আগের ঠিকানাতেই বসবাস করছেন। কিন্তু ঠিকানা পরিবর্তন করা কোনো নাগরিককে এমন ঘোষণা দিতে বাধ্য করা যায় না। মামলার পরবর্তী শুনানি মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ