পুজোর পাঁচদিন দেদার খাওয়া দাওয়া, সিনেমা আর ঠাকুর দেখা হোমের ছোটোদের
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, ঠাকুর দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড় আর পছন্দের খাবার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আনন্দে মেতে থাকা। ষষ্ঠী থেকে দশমী, এই পাঁচটা দিন ঘিরে ছোটোদের আনন্দের শেষ নেই। সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত নয় কৃষ্ণনগরের সরকারি হোমের শিশুরাও। হোমের ২৭ শিশুর জন্য দুর্গাপুজোর পাঁচদিন সাজিয়ে তোলা হয়েছে একগুচ্ছ পরিকল্পনায়। কখনও পাতে সর্ষে ইলিশ, কখনও চিকেন কষা কিংবা চিকেন বিরিয়ানি। বিকেলের জলখাবারে মুড়ি-চপ, স্যান্ডউইচ, আবার মোগলাই বা চিকেন রোল। সঙ্গে রয়েছে ঠাকুর দেখা, রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রোজেক্টরে একের পর এক বাংলা সিনেমা। সব মিলিয়ে পুজোর কটা দিন হোমের শিশুদের কাছে যাতে আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন।

Advertisement

হোমের অফিসার ইনচার্জ সুচেতা মণ্ডল বলেন, ‘পুজোর ক’টা দিন আনন্দ-উৎসবে ভরিয়ে তুলতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা রকমের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুর দেখা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সিনেমা দেখারও আয়োজন রয়েছে।’
ষষ্ঠীর সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর বিশেষ ভোজ। প্রাতরাশে শিশুদের দেওয়া হয়েছে চাউমিন। দুপুরের পাতে ছিল ভাত, মুগের ডাল, চিপস এবং সর্ষে ইলিশ। বিকেলের জলখাবারে মুড়ি-চপ। আর রাতের খাবারে মোগলাই। শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, ষষ্ঠীর দিন হোমের প্রোজেক্টরে দেখানো হয়েছে ‘বিজয়নগরের হীরে’ সিনেমা। পুজোর প্রথম দিনেই পছন্দের খাবার আর সিনেমার আনন্দে জমে উঠেছে শিশুদের উৎসবের আসর।
সপ্তমীর সকাল শুরু হবে ডালপুরি ও মিষ্টি দিয়ে। দুপুরে থাকছে গোবিন্দভোগ চাল ও মুগডালের খিচুড়ি, আলুরদম, চাটনি এবং পাঁপড় ভাজা। বিকেলের জলখাবারে স্যান্ডউইচ। রাতে সব্জি-ভাতের আয়োজন। তবে সপ্তমীর বিশেষ আকর্ষণ শুধু খাবার নয়, রয়েছে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনাও। উৎসবের আবহে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের সুযোগ পাবে শিশুরা। সপ্তমীর আনন্দে ঠাকুর দেখা যে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।
অষ্টমীতেও থাকছে এলাহি খাবারের ব্যবস্থা। সকালে প্রাতরাশে পেটাই পরোটা ও মিষ্টি। দুপুরের পাতে ভাত, ডাল, চিপস এবং সর্ষে ইলিশ। বিকেলে মুড়ি-আলুর চপ। রাতে থাকছে এগ চাউমিন। তবে অষ্টমীর মূল আকর্ষণ রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা। রং ও নকশার ছোঁয়ায় নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পাবে শিশুরা। পুজোর আনন্দে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মিলেমিশে সময় কাটানোর সুযোগও থাকছে।
নবমীর মেনুতেও থাকছে বিশেষ চমক। সকালে ডালপুরি দিয়ে শুরু হবে দিন। দুপুরে পাতে পড়বে চিকেন বিরিয়ানি, সঙ্গে আইসক্রিম। পুজোর অন্যতম আকর্ষণীয় দিনে এমন খাবারের আয়োজন শিশুদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেবে। পাশাপাশি পুজোর বাকি দিনগুলিতেও প্রোজেক্টরে দেখানো হবে একের পর এক বাংলা সিনেমা। তালিকায় রয়েছে ‘রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য’ এবং ‘পুরুলিয়ায় একেন’-এর মতো ছবি। ফলে পুজোর ছুটিতে হোমের ভিতরেই তৈরি হবে সিনেমা দেখার আলাদা পরিবেশ।
দশমীতেও থাকছে খাওয়াদাওয়া ও বিনোদনের যুগলবন্দি। সকালে পেটাই পরোটা দিয়ে শুরু হবে দিন। দুপুরে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হবে রুই মাছের কালিয়া। বিকেলের জলখাবারে থাকছে মুড়ি, ভেজিটেবল চপ এবং মিহিদানা। পাশাপাশি দেখানো হবে ‘সমুদ্রগড়ের গুপ্তধন’ সিনেমা। সিনেমার আনন্দ শেষ হলে রাতের খাবারে থাকছে চিকেন রোল। দশমীর দিনই আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গান, নাচ সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুজোর পাঁচ দিনের আনন্দযাত্রায় ইতি টানবে হোমের শিশুরা।