নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে রয়েছে বাংলার রথযাত্রার সঙ্গে। উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার দু’টি ঐতিহ্যশালী রথের সঙ্গে নামজুড়ে রয়েছে বঙ্কিমের। তার একটি হল নৈহাটিতে সাহিত্যসম্রাটের পরিবারের রথযাত্রা। অন্যটি বারুইপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের রথ। ১৮৬৫ থেকে ১৮৬৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বারুইপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। তখন বারুইপুর রাসমাঠে রায়চৌধুরী পরিবারের রথের লোহার শিকল টেনেছিলেন তিনি। ৩৫০ বছরের প্রাচীন এই রথ উৎসব এখনও ইতিহ্য মেনে হয়ে চলেছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়া লোহার শিকল দিয়ে রথটি টানা হয়। সেটির ১২টি কাঠের চাকা। যার পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে নৈহাটিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের রথ প্রথা অনুযায়ী দু’বার টানা হয়। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ও বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর রথ টানা হবে। সকালে বলরামকে নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ির মূল ফটক থেকে কুঞ্জ ঘর পর্যন্ত যাবে। বিকেলে পারিবারিক দেবতা রাধাবল্লভ জিউ ও অনন্তদেবকে নিয়ে কুঞ্জ ঘর থেকে অনন্ত পুকুর পর্যন্ত আসবে। এটি রাধাবল্লভের রথযাত্রা বলে পরিচিত। ১৬৮ বছরের পুরনো রথে থাকেন না জগন্নাথদেব। বঙ্কিমের দাদা শ্যামাচরণ ১৮৫৮ সালে রথযাত্রা চালু করেন। লোহা এবং পিতল দিয়ে তৈরি কুড়ি ফুট উচ্চতার রথটি বঙ্কিমের মা দুর্গাসুন্দরী দেবীর নামে সংকল্প করে বেরিয়েছিল। বর্তমানে বঙ্কিমের ছোটো ভাই পূর্ণচন্দ্রের পঞ্চম পুরুষ শান্তনু চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী বর্ণালী চট্টোপাধ্যায়ের নামে সংকল্প করে রথের সূচনা হবে। এখানে চারবেলা ভোগ হয়। ন’দিন ধরে বসে মেলা। হয় ঝুলনযাত্রা। সোজা ও উল্টোরথের দু’দিন বাদ দিয়ে বাকি সাতদিন রাধাবল্লভকে বৃন্দাবনলীলার বেশে সাজানো হয়। সোজারথের পরেরদিন গরুড়বাহন এবং উল্টোরথের আগের দিন গোষ্ঠবিহার বেশ। সোজা ও উল্টোরথের মধ্যে মঙ্গল ও শনিবার পড়লে সেদিন রাধাবল্লভকে কৃষ্ণকালী বেশে সাজানো হয়। বাকি দিনগুলি রাই রাজা, কালীয় দমন, নৌকাবিলাস, সত্যভামার দর্পচূর্ণ, বস্ত্রহরণ, বিষ্ণুর অনন্তশয্যা বেশ।



