দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: এবার থেকে যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ‘বেআইনি’! ককরোচ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বে পৌঁছে দিশাহারা মোদি সরকার এবার সরাসরি আঘাত হানল আন্দোলনের ভরকেন্দ্রে। যন্তরমন্তরকে ‘ডি-নোটিফাই’ করে সোমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পরিবর্তে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য তিনটি নতুন স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর দিল্লির বুরারি গ্রাউন্ড যন্তরমন্তর তথা সংসদ ভবন চত্বর থেকে যথাক্রমে প্রায় ১৫ কিমি এবং ২০ কিমি দূরে! পুরানো দিল্লির রামলীলা ময়দান তুলনায় খানিক কাছে! যন্তরমন্তর থেকে এর দূরত্ব কমবেশি পাঁচ কিমি। ছবিটা স্পষ্ট—গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে সংসদ ভবন থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। যদিও এতে আন্দোলন যে দমানো যাবে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ককরোচরা। অভিজিৎ দিপকের পালটা চ্যালেঞ্জ, ‘মোদি সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে না। অব পুরা দেশ যন্তরমন্তর বনেগা। ভিতু স্বেচ্ছাচারীর দৌলতে অবশ্য আগেই যন্তরমন্তর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তা আর কোনো বিক্ষোভ স্থলই ছিল না।’ দিপকের চরম কটাক্ষ, ‘প্রধানমন্ত্রী এবার গণতন্ত্রকেই ডি-নোটিফাই করবেন।’
১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সংসদ ভবনের লাগোয়া বোট ক্লাব ছিল বিক্ষোভ আন্দোলনের জন্য নির্ধারিত। সংরক্ষণ বিরোধী অ্যান্টি-মণ্ডল কমিশন ছাত্র আন্দোলনে স্তব্ধ হয়েছিল দিল্লি। সেইসময় বোট ক্লাবের পরিবর্তে বিক্ষোভ আন্দোলনের নির্ধারিত স্থান দিল্লির কেন্দ্র থেকে সরিয়ে যন্তরমন্তরে নিয়ে আসা হয়। তবে পার্লামেন্ট থেকে সামান্য দূরে হলেও এতদিন বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান যন্তরমন্তর ছিল সংসদ মার্গেই। তারপরও জেন জি বুঝিয়ে দিয়েছে, কণ্ঠরোধ করা হলে আরও উচ্চস্বরে প্রতিবাদ হবে। সোমবার সকালেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে দিল্লি পুলিশকে এই মর্মেই হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে সিজেপি নেতৃত্ব। সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, ‘২৪ ঘণ্টা সময় দিলাম। আপনারাই জানান, আমরা কবে, কোথায় আন্দোলন করতে পারি। না হলে আমরা নিজের মতো করে কর্মসূচির ঘোষণা করে দেব। তখন আর সামলাতে পারবেন না।’ বর্তমান নির্ধারিত তিনটি স্থানের মধ্যে রামলীলা ময়দান এবং সিবিডি গ্রাউন্ডে নবরাত্রির মেলা চলছে। ফলে আপাতত ওই দু’টি জায়গায় আন্দোলনের উপায় কিন্তু নেই! প্রশ্ন হল, প্রতিবাদের ঢেউ এখন কোথায় আছড়ে পড়বে?



