দুই শতাব্দী ধরে আজও অটুট হুগলীর দিগসুই শিবতলা বারোয়ারির পুজোর প্রাচীন ঐতিহ্য
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তখনও ব্রিটিশ সরকারের শাসন শুরু হয়নি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমল। সিপাহি বিদ্রোহের আগে শুরু হয়েছিল হুগলীর ঐতিহ্যমণ্ডিত দিগসুই শিবতলা বারোয়ারির দুর্গাপুজো। দুই শতাব্দী পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, বদলায়নি প্রাচীন ঐতিহ্য ও পরম্পরা। প্রাচীন রীতিনীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে এখানে। দিগসুই শিবতলা বারোয়ারির এই দুর্গাপুজো এবার ২৩৪ বছরে পা দিল। যা হুগলি জেলার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন পুজো। এই পুজোকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ। ঐতিহ্যবাহী একচালার প্রতিমা।

Advertisement

এবার বিশিষ্ট নিউরো স্পেশালিস্ট ডাঃ গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় এবং গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্বদের করকমলে পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামের মা-বোনেদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে সমস্ত মানুষ জাতি, ধর্ম, ধনী-দরিদ্র বা বর্ণ নির্বিশেষে সমবেতভাবে এই পুজোয় অংশ নেন। পুজোর কদিন চলবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতাও। বারোয়ারির সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাজ নারায়ণ আচার্য বলেন, ‘জাতি, ধর্ম, ধনী-দরিদ্র কিংবা ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে পথ চলা এবং ঐক্য বজায় রাখাই আমাদের প্রধান শক্তি। এবার ২৩৪ বছরে পদাপর্ণ করল এই পুজো।’

এই বারোয়ারির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন গ্রামের বহু প্রবীণ ব্যক্তিরা। তাঁরাও এই পুজোর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। মোহিত আচার্য বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই বারোয়ারি আজ শুধু একটি পুজো নয়, এটি আমাদের গ্রামের একতার প্রতীক। সুদূর অতীত থেকে বয়ে চলা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব’। শ্যামসুন্দর সরকারের কথায়, ‘সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে, কিন্তু দিগসুই শিবতলা বারোয়ারির প্রতি গ্রামবাসীর ভক্তি ও ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি পড়েনি। প্রতি বছর দুর্গোৎসবের কদিন আমরা সবাই সমস্ত দুঃখ-ভুল ভুলে এক পরিবারের মতো আনন্দ উপভোগ করি।’

মধুসূদন ঘোষ বলেন, বহু দশক ধরে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত আছি। ছোট থেকে বড় হওয়া, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই বারোয়ারি আমাদের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে আসছে। আগামী দিনেও এই ধারা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস’।