Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণনগর জেলা পরিষদের কাজ ও টেন্ডার নিয়ে ঠিকাদারদের দুই গোষ্ঠীর মারামারি, উত্তেজনা

জেলা পরিষদের কাজ ও টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারদের দুই গোষ্ঠীর মারপিটের ঘটনায় বুধবার দুপুরে কৃষ্ণনগরে উত্তেজনা ছড়ায়

কৃষ্ণনগর জেলা পরিষদের কাজ ও টেন্ডার নিয়ে ঠিকাদারদের দুই গোষ্ঠীর মারামারি, উত্তেজনা
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জেলা পরিষদের কাজ ও টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারদের দুই গোষ্ঠীর মারপিটের ঘটনায় বুধবার দুপুরে কৃষ্ণনগরে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন ঠিকাদাররা কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার রোড স্টেশন এলাকার একটি লজে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে দু’পক্ষের মারপিটে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বেশ কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন ঠিকাদার জখম হয়েছেন। কারও মাথা ফেটেছে, আবার কারও হাতে চোট লেগেছে। জখমদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Advertisement

বিজেপির একাংশের দাবি, তৃণমূলপন্থী ঠিকাদাররা এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার ছত্রছায়ায় ফের নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার লক্ষ্যেই ওই বৈঠক ডেকেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে নদীয়া উত্তরের বিজেপি নেতৃত্বের আপত্তি ছিল। বিজেপির সভাধিপতি নির্বাচনের পর থেকেই নদীয়া উত্তর ও নদীয়া দক্ষিণ বিজেপির মধ্যে যে ঠান্ডা লড়াই চলছে, ঠিকাদারদের এই সংঘর্ষে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
নদীয়া জেলা পরিষদের বিজেপির সভাধিপতি প্রণতি বিশ্বাস বলেন, আমি বুধবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে জেলা পরিষদে যাইনি। বিষয়টি একজনের মুখে শুনেছি। এটা জেলা পরিষদের জানার বিষয় নয়। আমিও কিছু জানি না। সভাধিপতি হওয়ার পর মাত্র এক মাস হয়েছে আমি চার্জ নিয়েছি।’
ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি বলেন, কে জখম হয়েছেন, তা আমি জানি না। ঠিকাদাররা কে কোন দিকের, সেটাও আমার জানা নেই। তাঁরা কেউ যদি মিটিং-মিছিল করেন বা মারপিট করেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
কৃষ্ণনগর উত্তরের মণ্ডল-২ সভাপতি বাপি শিল সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, আমরা মারামারি করতে যাইনি। আমাদের কাছে খবর ছিল, সব ঠিকাদার আলাদাভাবে এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন। যাঁরা এতদিন তৃণমূল করেছেন, তাঁদের কাছে আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম, কী কারণে মিটিং ডাকা হয়েছে। এক জায়গায় বসে টেন্ডার সহ সবকিছু করবে। আমাদের মণ্ডলের মধ্যে জেলা পরিষদ। অথচ আমরা কিছুই জানি না। নেতৃত্বও কিছু জানে না। ওরা এক জায়গায় বসে নিয়ম তৈরি করছিল। তৃণমূলের ঠিকাদাররা ভাবছে, আমরা করে এসেছি, আমরাই করব।’
তবে ঠিকাদারদের নিয়ে দলের কোনো সংগঠন বা ‘ইউনিয়ন’-এর পক্ষেই বিজেপি নেই বলে স্পষ্ট করেছেন নদীয়া উত্তরের বিজেপির জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস। তিনি বলেন, বিজেপির কোনো ঠিকাদার নেই। বিজেপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিল। তাহলে যারা বিজেপির নাম ভাঙাচ্ছে, তারা সঠিক কাজ করছে না। ঠিকাদার নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। যাদের কাছে কাগজ থাকবে, তারাই টেন্ডার করতে পারবে। তাই ইউনিয়ন করে কেউ কাউকে ঠেকাতে পারবে না। আমরা ঠিকাদারদের কোনো ইউনিয়নের পক্ষে নই। এই ঝামেলার বিষয়েও আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ কিছু বলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ