


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পচা মাংস রান্নার করার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জামুড়িয়া থানার বেলডাঙা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বুধবার এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা। পচা মাংস রান্নার দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু পড়ুয়াও। ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে স্কুলে হাজির হয় পুলিস। জামুড়িয়া ২ সার্কেলের স্কুল ইনস্পেক্টরের নির্দেশে তাঁর অফিস থেকে দুই কর্মী এসে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। এসআই অফিসে ডেকে পাঠানো হয় প্রধান শিক্ষককে। পরবর্তীকালে তাঁকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। স্কুলের মিড ডে মিলের রান্নার দায়িত্বে থাকা মহিলারা দাবি করেন, কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎই প্রধান শিক্ষক রামপ্রসাদ মুহুরি মিড ডে মিল খাওয়ানোর জন্য মাংস রান্না শুরু করেন। পচা মাংস রান্না হওয়ার সময়ে পুরো স্কুলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। কয়েকজন পড়ুয়া বমি করে। এরপরই এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী ও অভিভাবকরা এসে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে। মাংস ফেলে দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পচা মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলেন বলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পুলিস এসে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধান শিক্ষক বলেন, পাথরচূড় থেকে মাংস কিনেছিলাম। মাংস খারাপ হয়েছিল বলে বুঝতে পারিনি।
জামুড়িয়া ২ সার্কেলের স্কুল ইনস্পেক্টর দেবজ্যোতি দাস বলেন, ওঁকে শোকজ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, এর আগেও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তখন তাঁকে অন্য স্কুলে বদলি করা হয়েছিল। প্রয়োজনে তাঁকে সাসপেন্ড বা আবার বদলি করা হবে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।