দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দরপত্র আহ্বানের আগে নির্দিষ্ট ‘বেস ফিগার’ ঠিক করছে সরকার। কিন্তু সংস্থাগুলি তার থেকেও বেশি দরে ‘কোট’ করছে টেন্ডার। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ‘কোট’করার সংস্থাকেই প্রকল্প বাস্তবায়নের বরাত দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া ‘বেস ফিগারে’র তুলনায় বেশি দর ‘কোট’ করা সংস্থাকে বরাত প্রদানের ফলে একদিকে যেমন বড়োসড়ো অনিয়মের আশঙ্কা থাকছে। অন্যদিকে তেমনই সরকারের ঘাড়ে চাপছে বাড়তি আর্থিক বোঝা। জল জীবন মিশন, অম্রুতের মতো একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে এবার তাই আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে মোদি সরকার। এব্যাপারে রাজ্যে রাজ্যে নির্দেশিকা পাঠানোর পথে হাঁটছে মন্ত্রকগুলি। সেখানে স্পষ্টই বলা থাকবে, সরকার যে ‘বেস ফিগার’ নির্ধারণ করে দেবে, কোনোমতেই তার থেকে বেশি দর ‘কোট’ করা সংস্থাকে প্রকল্পের বরাত দেওয়া যাবে না। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের উপর। রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বেস ফিগারের থেকেও বেশি দর হাঁকা কত সংস্থাকে এভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বরাত কার্যত পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, একইসঙ্গে সেটিও খতিয়ে দেখার পথে হাঁটবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
কেন্দ্রের এহেন পদক্ষেপ এবং পরিকল্পনার বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল আমলে এমন অনেক অনিয়ম হয়েছে বলেই শুনেছি। রীতিমতো সিন্ডিকেট তৈরি করে একটি প্রকল্পের জন্য চার-পাঁচটি সংস্থাকে কাজে লাগানো হত বলে আমার কাছে খবর আছে। সেভাবেই বরাত পেত সংস্থাগুলি। সেই কারণে বর্তমান রাজ্য সরকারকে খুব দেখেশুনে আগের যাবতীয় বিল ক্লিয়ার করতে হচ্ছে। তবে প্রকল্পের কাজ যাতে আটকে না যায়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারণ তাহলে বাংলার মানুষকেই ভুগতে হবে।’
এদিন রাজ্যের মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩০ মে বাংলায় যাবেন কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। কেন্দ্র-রাজ্য বৈঠকেও নির্দিষ্ট করে এবিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও সরকারি সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, সারা দেশে শুধুমাত্র জল জীবন মিশন কর্মসূচিতেই এমন প্রায় ১৫ হাজার প্রকল্পের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ‘বেস ফিগার’-এর থেকে বেশি দর হাঁকা সংস্থাকে বাস্তবায়নের বরাত দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জলশক্তি মন্ত্রকের ঘাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক বোঝা চেপেছে। অম্রুত কর্মসূচি রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে নগরোন্নয়ন মন্ত্রক। এর প্রথম পর্যায় চলেছে ২০১৫ থেকে ২০২১ পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হয়েছে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। যদিও এর মেয়াদ সম্প্রসারিত হওয়ার সিদ্ধান্ত একপ্রকার চূড়ান্ত হয়েই গিয়েছে। কারণ অম্রুত কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক শুরু করেছে কেন্দ্র। এমন পরিস্থিতিতে অযথা যাতে বেনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ না ওঠে, আপাতত তা নিশ্চিত করতেই রীতিমতো মরিয়া হয়েছে মোদি সরকার।