সংবাদদাতা,মেদিনীপুর: দুর্গাপুজোর আর একমাসও নেই। মেদিনীপুর শহরের ভাঙাচোরা রাস্তা চিন্তায় ফেলেছে পুজো উদ্যোক্তা ও বাসিন্দাদের। পুজোর সময়ও যদি ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে ঠাকুর দেখতে যেতে হয় দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। কবে রাস্তার কাজ হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুরসভাও। শহরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই অধিকাংশ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে সর্বত্রই চর্চা চলছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে রাস্তার কাজের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু টাকা আসে নি। ফলে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, আমরা রাস্তার কাজের জন্য পরিকল্পনা পাঠিয়ে ছিলাম। সেই মতো ভেটিং হয়। নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে টেন্ডারও করা হয়েছে। কিন্তু টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় কাজের বরাত দেওয়া যাচ্ছে না। টাকা এলেই ঠিকাদার সংস্থাকে কাজের বরাত দিয়ে দেওয়া হবে। তবে এখন নতুন করে রাস্তা করা যাবে না। যেসব রাস্তা ভেঙে গিয়েছে সেগুলি মেরামত করা হবে। আশা করছি এসপ্তাহেই টাকা এসে যাবে। অভিজ্ঞমহলের মতে টাকা আসার পর কাজের বরাত পেয়ে ঠিকাদাররা কাজ শুরু করতে সময় লাগবে। স্বাভাবিকভাবেই হাতে বেশি সময় থাকবে না। পুজোর মুখে হয়তো কোনোরকমে ভাঙাচোরা অংশগুলি ভরাট করা হবে। তবে তা কতদিন টিকবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। পুরসভার পূর্ত দপ্তরের সিআইসি সদস্য সৌরভ বসু বলেন, আমরা প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছি। যা জানা যাচ্ছে রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তর আপাতত ৭ কোটি টাকা পাঠাবে। তাতে যা কাজ হয় করা হবে। টাকা এলেই আমরা কাজের বরাত দিয়ে দেব। দ্রুত যাতে কাজ শুরু হয় তারও উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন শহরে রাস্তা সংস্কারের কোনও কাজ হয় নি। অধিকাংশ রাস্তাই ভেঙেচুরে গিয়েছে। রাস্তার বুকে যেমন বড় বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে। তেমনই রাস্তার ধার ভেঙে পরিসরে ছোট হয়ে গিয়েছে। রাস্তার ওপর দিয়ে বৃষ্টির জল বয়ে যাওয়ায় পিচ উঠে গিয়েছে। রাস্তাগুলির ক্ষতবিক্ষত চেহারা হয়ে গিয়েছে। সাইকেল, মোটরবাইক, স্কুটার নিয়ে যাতায়াত করতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। রাস্তার ওপর চারদিকে চিপস ছড়িয়ে থাকায় পথ চলতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কবে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে সেই আশায় দিন গুনছেন বাসিন্দারা।



