Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি পার, তীব্র দাবদাহে উত্তরপ্রদেশের বান্দায় কার্যত লকডাউন, সতর্কবার্তা পরিবেশবিদদের

ঘড়িতে সবে সকাল ৯টা। এরই মধ্যে ঘরমুখী লোকজন। ১০টা বাজতেই শুনশান রাস্তাঘাট। ততক্ষণে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রির ঘর ছুঁয়েছে। বেলা বাড়তে মানুষ তো দূরের কথা, কুকুর বেড়ালেরও দেখা নেই রাস্তায়।

তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি পার, তীব্র দাবদাহে উত্তরপ্রদেশের বান্দায় কার্যত লকডাউন, সতর্কবার্তা পরিবেশবিদদের
  • ২১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ: ঘড়িতে সবে সকাল ৯টা। এরই মধ্যে ঘরমুখী লোকজন। ১০টা বাজতেই শুনশান রাস্তাঘাট। ততক্ষণে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রির ঘর ছুঁয়েছে। বেলা বাড়তে মানুষ তো দূরের কথা, কুকুর বেড়ালেরও দেখা নেই রাস্তায়। রাজস্থানের কোনো এলাকা নয়, এই ছবি উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড এলাকার বান্দা জেলার। গত ২৭ এপ্রিল বান্দার তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৫১ সালের পর সেটাই ছিল এই এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। মঙ্গলবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গিয়েছে। সেদিন এই জেলার তাপমাত্রা ছিল ৪৮.২ ডিগ্রি। টানা তিনদিন ধরে তাপমাত্রার নিরিখে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে জেলাটি।

Advertisement

এই জেলার আট্টারা শহরের একটি গহনার দোকানের মালিক লক্ষ্মণ গুপ্তা জানিয়েছেন, প্রবল দাবদাহের জেরে ব্যবসা কার্যত শিকেয় উঠেছে। লক্ষ্মণ বলেন, ‘এপ্রিল মাস থেকে প্রায় কিছুই বিক্রি করতে পারিনি। সকাল ১০টা বাজতেই বান্দা কার্যত মরুভূমি হয়ে যায়। সকালের দিকে দু-একজনকে বাইরে দেখা গেলেও বেলা বাড়তেই চারিদিক খাঁ-খাঁ করে।’ গোটা বান্দা জেলা জুড়েই দোকান-বাজার খুলছে সূর্যাস্তের পর। রাতে বিদ্যুতের আলোয় চলছে কৃষিকাজ। পরিস্থিতি এমনই যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ট্রান্সফরমারগুলিতে নিয়মিত জল ঢালতে হচ্ছে। তারপরেও দিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। 
কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি? গবেষকরা জানাচ্ছেন, বান্দার ভৌগলিক অবস্থানই এই এলাকায় তীব্র গরমের জন্য দায়ী। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের অপরিনামদর্শী কার্যকলাপ। ফলে এই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বান্দা সহ বুন্দেলখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় ডিনামাইট বিস্ফোরণ করে খননকার্য করা হয়। বিস্ফোরণ ও স্টোন ক্রাশারের কারণে সৃষ্ট বাতাসের ধুলোর স্তর বাতাসে সূর্যের তাপকে ধরে রাখছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে শীতল হতে পারছে না এই এলাকা। অন্যদিকে কেন নদী থেকে যথেচ্ছভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে বালি। যার ফলে ভূগর্ভে জলশূন্যতা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ১২০ ফুটেরও নীচে নেমে গিয়েছে। পাশাপাশি যথেচ্ছভাবে কাটা হয়েছে বনাঞ্চল। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর গড়ে ১৩ শতাংশের বেশি বনাঞ্চল হারাচ্ছে বান্দা জেলা। 

সম্পর্কিত সংবাদ