নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভরসন্ধ্যায় প্রকাশ্য রাস্তায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে আন্দুলের মহিয়ারীতে খটির বাজারের চাঁদনিবাগান এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত যুবক সমীর দাসকে হাতেনাতে ধরে ফেলে রীতিমতো গণপিটুনি দেয়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গুরুতর জখম ওই কিশোরীকে হাওড়া জেলা হাসপাতালের আইসিইউতে ভরতি করা হয়েছে। রাতেই সেখানে তার মৃত্যু হয়। পাশাপাশি গণপিটুনিতে জখম যুবকেরও চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খটির বাজারের বাসিন্দা দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সাইকেলে চড়ে টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিল। অভিযোগ, সেই সময় সমীর দাস নামের ওই যুবক আচমকা তার পথ আটকে দাঁড়ায়। অভিযুক্ত ধারালো ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রীর উপর। প্রকাশ্য রাস্তায় কিশোরীর গলা, হাত ও পেটে একের পর এক ছুরির কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রাই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ডোমজুড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেপাজতে নেয়। জখম তরুণীকে প্রথমে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে যুবকের চিকিৎসাও চলছে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রেমঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সমীর দাসের বাড়ি বীরভূম জেলায়। সে আন্দুলের জালান কমপ্লেক্সে একটি সংস্থায় কাজ করে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিজস্ব চিত্র



