জিতে সিরিজে এগল টিম ইন্ডিয়া, অভিষেকের ঝোড়ো ৬৯,  তিন উইকেট অর্শদীপের
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দোর: যাবতীয় সমালোচনা উড়িয়ে জ্বলে উঠলেন বোলাররা। রবিবার হোলকার স্টেডিয়ামে পকেটে ২২৩ রানের পুঁজি নিয়েই জয় ছিনিয়ে আনেন অর্শদীপ সিং, নমন ধীররা। সিরিজের তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০৯-৭) বশ মানে ১৪ রানে। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ এগিয়ে যায় ভারত। চতুর্থ ম্যাচ বুধবার হায়দরাবাদে।

Advertisement

এদিন রান তাড়ার শুরুতেই ক্যারিবিয়ান ক্যাপ্টেন শাই হোপকে (৫) ফেরান অর্শদীপ। তাঁর স্টাম্প ছিটকে দেন বাঁ-হাতি পেসার অর্শদীপ সিং। মায়াঙ্ক যাদব যদিও প্রথম স্পেলে ঘণ্টায় ১৫১ কিমির ডেলিভারতেও থাকেন উইকেটহীন। শিমরন হেটমায়ার (৪৩) ও কামিল পুরান (৪২) ধাক্কা সামলে লড়াইয়ে ফেরান সফরকারী দলকে। কিন্তু দু’জনেই অফস্পিনার নমন ধীরের (২-৩৯) শিকার। এরই মধ্যে রভম্যান পাওয়েল (৫) আউট হন অক্ষর প্যাটেলের ডেলিভারিতে। কুয়েনতিন স্যাম্পসন (২১) ফেরেন নীতীশ রেড্ডির বলে। শেরফানে রাদারফোর্ড (৩২) ভরসা দিচ্ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কিন্তু অর্শদীপের (৩-৪৪) বলে তিনি ফিরতেই ভারতের জয়ে সিলমোহর পড়ে। রাঁচিতে আড়াইশো রানের টার্গেট তাড়া করে অনায়াসে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যাপ্টেন শাই হোপের শতরান তফাত গড়ে দেয়। এদিন তাই টস হেরে ব্যাট করতে নামার সময় আরও বড়ো রান ছিল টার্গেট। বিশেষ করে হোলকার স্টেডিয়ামের বাইশ গজ ধুমধাড়াক্কা হাঁকানোর পক্ষে আদর্শ। আর মাঠও ছোটো। কিন্তু এদিন আড়াইশো প্লাস নয়, তার অনেক আগেই থামে ভারত। দুটো রান আউট আর বেশ কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন শটের কারণে ইনিংসে দাঁড়ি পড়ে ২২৩ রানে। 
এদিন দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন সঞ্জু স্যামসন (৩)। গত ম্যাচে বড়ো রান পেলেও এদিন ছয় বলের বেশি থাকেননি তিনি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ঈশান কিষানের সঙ্গে ধুন্ধুমার জুটি গড়ে তোলেন অভিষেক শর্মা। বাঁ-হাতি ওপেনার সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে শুরুটা ভালো করেও প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ হন। কিন্তু এই ম্যাচে তিনিই দলের সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরানের পর তিনি থামেন ৬৯ রানে। ৩০ বলের ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। যেভাবে খেলছিলেন তাতে তিন অঙ্কের রান মোটেই অসম্ভব ছিল না।
অভিষেক ছাড়া ভারতের কেউ পঞ্চাশের গণ্ডি টপকাতে পারেননি। ঈশান (১৮ বলে ৩৭), সহঅধিনায়ক তিলক ভার্মা (২৮), নীতীশ কুমার রেড্ডি (২১), অক্ষর প্যাটেল (২০) — কেউই বড়ো রান পাননি। হতাশ করেন ক্যাপ্টেন শ্রেয়স (১), নমন ধীর (১০)। ক্যারিবিয়ান বোলারদের মধ্যে নজর কাড়েন রোস্টন চেজ (২-৩৮), শামার স্প্রিঙ্গার (২-৫০)। শামার জোসেফ (২-৫৪)। 
ইনিংসের মিডল ওভারে, অর্থাৎ, ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে পাঁচ উইকেট পড়ে যায় ভারতের। স্বাভাবিকভাবেই রানের গতি নেমে আসে। ঝড় ওঠেনি স্লগ ওভারেও। এই সময় ওঠে ৪৯ রান, পড়ে ৪ উইকেট। তার মধ্যে তিলকের ‘ব্রেন ফেড’ রান আউটও রয়েছে। বিরতিতে তাই অভিষেক বলেন, ‘যেভাবে আমরা শুরু করেছিলাম, তাতে অবশ্যই ১৫-২০ রান কম উঠেছে। তার পরও অবশ্য এই পিচে ২২৩ মোটেই কম স্কোর নয়।’