নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্লাসে দুষ্টুমি করায় দুধের শিশুকে উপরে তুলে আছাড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে নিউ আলিপুর এলাকায় একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। শিক্ষিকার নিষ্ঠুরতার কথা শুনে ক্ষুব্ধ তাঁর সহকর্মী থেকে অভিভাবকরা। দু’বছরের শিশু আয়ুষ পাশওয়ানকে টাইলসের মেঝের উপর আছাড় মারায় তার ডান পা ভেঙেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ব্যাপক চটেছে ওই শিশুর পরিবার। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার ভোরে অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুনন্দা সরকারকে বেহালা থেকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। তবে এতবড় ঘটনার পরেও কেবল জুভেনাইল অ্যাক্টে মামলা করল কেন পুলিশ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শিশুকে এ বছরই নিউ আলিপুর এলাকার ওই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রি-নার্সারিতে ভরতি করেন অভিভাবকরা। অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার সকালে স্কুলে যায় সে। ক্লাস টিচার সুনন্দা সরকার বাচ্চাদের খেলার ছলে পড়ানোর সময় আয়ুষ অমনোযগী হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করেছেন ওই শিক্ষিকা। সে নাকি দুষ্টুমি করছিল। পড়ার বদলে তার মন ছিল খেলার দিকে। সে সহপাঠীদের সঙ্গে গল্প ও দুষ্টুমি করায় রেগে যান শিক্ষিকা। পুলিশ জানিয়েছে, সুনন্দা আয়ুষকে ডেস্ক থেকে তুলে এনে উপরে তুলে ধরেন। এরপর মাটিতে আছাড় মেরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। যা দেখে ভয় পেয়ে যায় অন্যান্য পড়ুয়ারা। আয়ুষ চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। তার কান্না শুনে স্কুলের অন্য শিক্ষিকারা ছুটে আসেন ক্লাসরুমে। তাঁরাই প্রাথমিক শুশ্রূষা করেন শিশুটির। অভিযুক্ত শিক্ষিকা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সহকর্মীদের বলেন, দৌড়তে গিয়ে পড়ে গিয়েছে আয়ুষ। কিন্তু দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি স্বীকার করেন যে, আছাড় মেরেছেন ওই ছাত্রকে। ঘটনার পরেই খবর দেওয়া হয় আয়ুষের বাবা-মাকে। তাঁরা এসে দেখেন, সন্তান যন্ত্রণায় ছটফট করছে। এ নিয়ে স্কুলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। আহত ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। এক্স-রে’তে ধরা পড়ে তার ডান পা ভেঙেছে। সেখানেই পায়ে প্লাস্টার করা হয়। এরপর ওই শিশুর পরিবারের তরফে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ কেবল জুভেনাইল অ্যাক্টে কেস রুজু করে। এই ঘটনায় আতঙ্কে ভুগছেন ওই ছাত্রের বাবা-মা। বড়ো অঘটন থেকে ভগবান বাঁচিয়ে দিয়েছেন বলে তাঁদের বক্তব্য। কারণ টাইলসের ফ্লোরে পড়ায় তার জীবনহানি পর্যন্ত ঘটতে পারত।
তদন্তে নিউ আলিপুর থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতবড়ো ঘটনার পরেও বিপজ্জনকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা খুনের চেষ্টা মতো ধারা যুক্ত করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, কোনো প্রভাবশালীর নির্দেশেই কি থানা এই ধারাগুলি যুক্ত করেনি? তদন্তে গা-ছাড়া মনোভাবের অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশের দাবি, নির্দিষ্ট আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। পরে ওই শিক্ষিকা আদালত থেকে জামিনও পেয়ে গিয়েছেন।



