


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত এক বছরে ভারত থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার চা রপ্তানি হয়েছে। যা বিগত কয়েক বছরে রেকর্ড। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সবমিলিয়ে ২৮০.৪০ মিলিয়ন কেজি অর্থাৎ ২৮ কোটি কেজি চা রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানিকৃত ওই চায়ের মূল্য ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। ২০২৪ সালে ভারত থেকে চা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৫৬.১৭ মিলিয়ন কেজি অর্থাৎ ২৫ কোটি কেজি। যার আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ১৬৭ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় চা রপ্তানির পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে।
এতেই ভবিষ্যতে সুদিন ফেরার আশায় বুক বাঁধছে উত্তরবঙ্গের চা শিল্প মহল। তাদের বক্তব্য, রপ্তানি বেশি হওয়া মানেই চায়ের বাজার ভালো হওয়া। ২৮ কোটি কেজি চা রপ্তানি হওয়া মুখের কথা নয়। তাছাড়া এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত। ফলে এখন থেকে ইউরোপের দেশগুলিতে সরাসরি চা পাঠানো যাবে। তাছাড়া আমেরিকার সঙ্গে নয়া বাণিজ্য চুক্তিতে সই হতে চলেছে। এক্ষেত্রে চা জিরো ট্যারিফ অর্থাৎ শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে। যার কারণে মার্কিন মুলুকে অনেক বেশি পরিমাণ চা রপ্তানির আশা। সবমিলিয়ে আগামীতে চায়ের বাজার চাঙ্গা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, চা রপ্তানির পরিসংখ্যান উৎসাহব্যাঞ্জক। এই ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে চা শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিস্টা) সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, গোটা বিশ্বে যে ভারতের চায়ের কদর বাড়ছে, এক্সপোর্টের পরিসংখ্যানে তা স্পষ্ট। ২০২৫ সালে দেশে ১৩৬৯ মিলিয়ন কেজি অর্থাৎ প্রায় ১৩৭ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি কেজি চা। এটা রেকর্ড। তাঁর দাবি, আমাদের দেশে উৎপাদিত অর্থোডক্স চায়ের পাশাপাশি ব্ল্যাক টি’র চাহিদা বাড়ছে চীনে। ফলে সেখানে যাতে আরো বেশি পরিমাণ চা রপ্তানি করা যায়, সেই লক্ষ্যে শীঘ্রই আমাদের দেশের এক্সপোর্ট প্রতিনিধিরা চীনে যাবেন।
এতদিন বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে অর্থোডক্স চায়ের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, রপ্তানির ক্ষেত্রে অর্থোডক্স চায়ের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে সিটিসি। গত এক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, সিটিসি রপ্তানি হয়েছে ১২৭ মিলিয়ন কেজি অর্থাৎ ১২ কোটি কেজি। সেখানে রপ্তানিকৃত অর্থোডক্স চায়ের পরিমাণ ১২৮.৪৭ মিলিয়ন কেজি। অর্থাৎ সিটিসির চেয়ে কিছুটা বেশি।