নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাইবার হানার ফলে গত প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ ছিল কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি কর আদায়। সেই প্রক্রিয়া ফের শুরু হয়েছে। কিন্তু ট্যাক্স দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন করদাতারা। কারণ, ইতিমধ্যে পেরিয়ে গিয়েছে রিবেট বা ছাড়ের সময়সীমা। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্যাক্স না দিলে যে পেনাল্টি বা জরিমানা লাগু হয়, তা ধরেই এখন ট্যাক্স দিতে হচ্ছে করদাতাদের। অনলাইনে বা পুরসভার অফিসে গিয়ে ট্যাক্স দিতে গেলে একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন করদাতারা। এই অবস্থায় রিবেটের সময়সীমা বাড়াতে চলেছে পুরসভা। মঙ্গলবার রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। সেখানে ঠিক হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে যে করদাতাদের সম্পত্তি করে রিবেট মেলার সময়সীমা ছিল, তাঁদের সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর করা হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত কম্পিউটারের সিস্টেমে এই বদল করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ট্যাক্স জমা না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুরকর্তারা।
উল্লেখ্য, সাইবার হানার কারণে সারা রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার অনলাইন ব্যবস্থাও কার্যত বসে যায়। জানা গিয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা সাইবার হানা চলে সরকারি সার্ভারে। তাই এতদিন ধরে পুরসভার ট্যাক্স কালেকশন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। অনলাইনেও ট্যাক্স জমা করা যাচ্ছিল না। ট্যাক্স আদায়ের গোটা ব্যবস্থা অনলাইন হওয়ায় পুরসভার অফিসে এসে টাকা জমা করলেও অনলাইনে বিল জেনারেট হয়। তাই চাইলেও অফলাইনে কর দেওয়া যাচ্ছিল না। গত ৩ অক্টোবর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু ট্যাক্স মেটাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু করদাতা। যাঁরা পেমেন্ট করে ফেলেছেন, তাঁদের পেনাল্টি দিতে হয়েছে। অনেকে আবার অনলাইনে বিল দিতে গিয়ে জরিমানার অঙ্ক দেখে পিছিয়ে এসেছেন।
কেন এই পরিস্থিতি? পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, রিবেট ডেট পেরিয়ে যাওয়ায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পেনাল্টিসহ বিল জেনারেট করছে এবং সেভাবেই পেমেন্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই রিবেটের সময়সীমা শুধু বাড়ালেই হবে না, তার জন্য সিস্টেমে প্রয়োজনীয় বদলও করতে হবে। তাই ঠিক হয়েছে, ওই নির্দিষ্ট ২০-২৫ দিনের মধ্যে যেসব করদাতার রিবেট ডেট ছিল, তাঁদের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হবে। লিখিতভাবে প্রশাসকের সিলমোহর পেলেই কম্পিউটারের সিস্টেমে তা ‘আপডেট’ করে দেওয়া হবে। তখন আবার পেনাল্টি ছাড়াই কর প্রদানের সুযোগ পাবেন নাগরিকরা। যাঁরা ইতিমধ্যে পেনাল্টিসহ কর দিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের জমা দেওয়া বাড়তি টাকা কীভাবে ‘অ্যাডজাস্ট’ করা যায়, সেই চিন্তাভাবনাও শুরু করেছেন পুরকর্তারা।