


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র তারাপীঠ। বিশেষ করে বাঙালি ব্যবসায়ীদের কাছে এক আলাদা গুরুত্বপূর্ণ দিন। ফিবছর এই দিনটিতে তারাপীঠে উপচে পড়ে ভক্তদের ভিড়। এবারও তার অন্যথা হবে না বলে আশা মন্দির কমিটির। তবে এবছর বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের আনাগোনায় অন্যমাত্রা পাবে। ভিড় সামাল দিতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দিরের নিজস্ব সিকিউরিটি কর্মীদের পাশাপাশি তারাপীঠ থানার পুলিশের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পুরো চত্বর থাকবে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে বলে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে মা তারার পুজো দিয়ে বছর শুরু করতে প্রতিবছর পয়লা বৈশাখের দিন ভক্তদের ঢল নামে তারাপীঠে। বর্তমানে ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীরাও মা তারার চরণে হালখাতা ও গণেশ মূর্তি স্পর্শ করিয়ে ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। মূলত শনি ও রবিবার কোনো তিথি পড়লে ব্যাপক ভিড় হয়। এবার পয়লা বৈশাখ বুধবার হলেও প্রচুর ভক্ত সমাগমের আশা করছেন সেবাইতরা।
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ভোরে মায়ের স্নানের পর রাজবেশে সাজিয়ে পুজো ও মঙ্গলারতী করা হবে। এরপরই সকল ভক্তদের জন্য গর্ভগৃহ খুলে দেওয়া হবে। রাজ্য ছাড়াও ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীরা তো রয়েছেই, তার উপরে রয়েছে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। ছেলেমেয়েদের ভাল ফলের কামনায় অভিভাবকদেরও ভিড় জমবে বলে তাঁর আশা। এদিন মাকে দু’বার ভোগ নিবেদন করা হবে। আতপ অন্ন, পোলাও, পঞ্চব্যঞ্জন, মাছ, বলির মাংস, মিষ্টি, ফল ও কারণ দিয়ে মায়ের মধ্যাহ্ন ভোগ নিবেদন করা হবে। সন্ধ্যায় মাকে বেনারসী পরিয়ে বিশেষ সাজে সজ্জিত করা হয়। সন্ধ্যারতী ও মায়ের পুজোর পর রাতে খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হবে। ওইদিন ভোগে অবশ্যই থাকে লাড্ডু। সকল ভক্তরা যাতে মায়ের দর্শন পান, সেজন্য অনেক রাত পর্যন্ত গর্ভগৃহ খোলা থাকবে। তিনি বলেন, ওইদিন যেহেতু জেলার নলহাটি, মল্লারপুর, রামপুরহাট, সাঁইথিয়ার ব্যবসায়ীদের বড়ো একটা অংশের ভিড় থাকে। তাই সকলের পুজো দিতে যাতে কোনো অসুবিধে না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে নতুন বছরের আগমন মানেই নতুন আশা। বিধানসভা নির্বাচনের দোড়গোরায় পয়লা বৈশাখ হওয়ায় প্রার্থীরাও মায়ের কাছে প্রার্থনা জানাতে ভিড় জমাবেন। রামপুরহাট বিধানসভার প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওইদন সকাল সকাল পুজো দিয়েই জনসংযোগে বেরিয়ে পড়ব। অন্যদিকে, হাসন কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ও মায়ের কাছে কামনা জানাতে আসবেন বলে জানিয়েছেন।
তারাপীঠের গবেষক প্রবোধকুমারকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজা রামজীবন চৌধুরী তারামায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করে মারা যান। ১৭০১ সালে সাধক প্রথম আনন্দনাথ তৎকালীন পান্ডা কিশোর, হরসিত, রামস্মরণের সহযোগিতায় অন্যান্য উৎসবের সঙ্গে পয়লা বৈশাখ উৎসব চালু করেছিলেন। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মাকে পুজো দিতে ভিড় জমাতেন। বর্তমানে রাজ্য ছাড়িয়ে ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীরা আসেন।