Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপে তাঁতিদের থেকে এবার সরাসরি তাঁতবস্ত্র কিনল তন্তুজ

কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই তাঁতিদের থেকে সরাসরি তাঁতবস্ত্র কিনল তন্তুজ। মঙ্গলবার নবদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট অফিসের (হ্যান্ডলুম) সহযোগিতায় ও বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর উদ্যোগে নবদ্বীপের বড়ালঘাট তাঁতি বাজারে এই সংগ্রহ শিবিরের আয়োজন করা হয়

নবদ্বীপে তাঁতিদের থেকে এবার সরাসরি তাঁতবস্ত্র কিনল তন্তুজ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই তাঁতিদের থেকে সরাসরি তাঁতবস্ত্র কিনল তন্তুজ। মঙ্গলবার নবদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট অফিসের (হ্যান্ডলুম) সহযোগিতায় ও বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর উদ্যোগে নবদ্বীপের বড়ালঘাট তাঁতি বাজারে এই সংগ্রহ শিবিরের আয়োজন করা হয়। এখানে নবদ্বীপ, নাকাশিপাড়া, পূর্ব বর্ধমান জেলার ধাত্রীগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার তাঁতিরা তাঁদের তৈরি তাঁতবস্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।

Advertisement

শিবিরে তন্তুজের আধিকারিক ও কস্টিং টিম, তাঁতিদের আনা বস্ত্রের গুণমান, মাপ যাচাই করেন। তন্তুজ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত হস্তচালিত তাঁতশিল্পীর কাছ থেকে সর্বাধিক ২০টি করে বস্ত্র সংগ্রহের কথা ঘোষণা করা হয়। তবে নির্ধারিত মান পূরণ করলে তবেই সেই বস্ত্র কেনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। শাড়ির ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ৫.৫০ মিটার (ব্লাউজ পিস ছাড়া), বহর ৪৬ থেকে ৪৮ ইঞ্চি এবং বস্ত্র ১০০ শতাংশ সূতির হওয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত গুণমানের বাইরে থাকা, সিন্থেটিক বা নিম্নমানের শাড়ি বাদ দেওয়া হয়েছে। নমুনা যাচাই করে গুণমান ও মাপ নির্ধারিত মান অনুযায়ী হলে পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট তাঁতির কাছ থেকে আরও বস্ত্র সংগ্রহ করবে তন্তুজ। বস্ত্র বিক্রির জন্য তাঁতিদের হস্তচালিত তাঁতশিল্পীর পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, পাসবুকের প্রথম পাতার ফটোকপি অথবা বাতিল চেক জমা দিতে হবে।
তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি বস্ত্র কেনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কমবে ফলে আর্থিক লাভ হবে তাঁত শিল্পীর। পাশাপাশি তাঁতিদের উৎপাদিত বস্ত্রের সরাসরি বাজার তৈরি হবে।
পূর্ব বর্ধমানের ধাত্রীগ্রামের তাঁতি লিপি দাস বলেন, তন্তুজের শিবিরে বিক্রির জন্য ১৫টি শাড়ি নিয়ে এসেছি। এখানে শাড়ির ন্যায্য দাম পেলে আমাদের মতো তাঁতিদের অনেকটাই উপকার হবে। নবদ্বীপ ব্লকের মুকুন্দপুরের তাঁতশ্রমিক গোপালচন্দ্র সেন বলেন, নবদ্বীপে এই প্রথম তন্তুজের পক্ষ থেকে তাঁতিদের কাছ থেকে কাপড় কেনার শিবির করা হয়েছে। আমি বালুচরি ও টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে এসেছি।
এদিন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর প্রতিনিধি শিবশঙ্কর ঘোষ বলেন, বিধায়ক, হ্যান্ডলুম অফিসার এবং তন্তুজের উদ্যোগে এই প্রথম নবদ্বীপ বিধানসভা এলাকায় সরাসরি তাঁতিদের থেকে শাড়ি কেনা হচ্ছে। নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। আগামী দিনে তন্তুজের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক শাড়ি বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু এ রাজ্যে নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও নবদ্বীপের শাড়ির বাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, নবদ্বীপে যে সমস্ত তাঁত কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পুনরায় চালু করারও চেষ্টা করছেন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী। এছাড়াও উন্নত মানের শাড়ি তৈরির জন্য আগামী দিন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
তন্তুজের প্রকিওরমেন্ট অফিসার (টেকনিক্যাল) মাইনুল মালিতা বলেন, তাঁতিরা সারা বছর শাড়ি, গামছা, টাওয়াল সহ বিভিন্ন হস্তচালিত পণ্য তৈরি করেন। তাঁদের তৈরি পণ্য বাজারজাত করতে এবং তাঁতিদের সহযোগিতা করতেই তন্তুজের তরফে সরাসরি পণ্য কেনা হয়। বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের শিবির করা হয়েছে, এবার নবদ্বীপে করা হচ্ছে। পুজোর আগে নবদ্বীপের শিবিরটি শেষ শিবির, পুজোর পরে ফের এই ধরনের শিবির করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ