নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বন্দিদের ভিড়ে শতবর্ষ প্রাচীন তমলুক উপ সংশোধনাগারের হাঁসফাঁস অবস্থা। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই উপ সংশোধনাগারে ১৬২জন থাকার মতো পরিকাঠামো রয়েছে। অথচ, এখন রোজ ২২০থেকে ২৩০জন বন্দি থাকছে এখানে। শুধুমাত্র বিচারাধীন এবং জেল হেপাজতে থাকা বন্দিদের ঠাঁই হয় এখানে। সাজা ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্তদের মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে স্থানান্তর করা হয়। একশো বছর আগে মহকুমা শহর হিসেবে তৈরি হওয়া ওই উপ সংশোধনাগারের ‘স্ট্যাটাস’ এবং পরিকাঠামো এখনও বদল হয়নি। অথচ, তমলুক জেলা সদর হওয়ার কারণে পসকো, মাদক সহ বিভিন্ন মামলার জন্য বিশেষ আদালত জেলার মধ্যে কেবলমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে রয়েছে। অভিযুক্তদের এই আদালতে আনা হয়। পাশাপাশি তমলুক উপ সংশোধনাগারে তাদের ঠাঁই হয়। তমলুক উপ সংশোধনাগারের জেলার তথাগত রায় বলেন, আমাদের সংশোধনাগারে পরিকাঠামোর তুলনায় বন্দিদের সংখ্যা বেশি একথা ঠিক। নিমতৌড়িতে নতুন সংশোধনাগার তৈরি হয়েছে। দ্রুত সেটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
২০০২সালে ১জানুয়ারি অবিভক্ত মেদিনীপুর ভাগ হয়ে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৈরি হয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হেডকোয়ার্টার হয় তমলুক। তারপর প্রায় ২৫বছর কাটতে চললেও তমলুকে ডিস্ট্রিক্ট কারেকশনাল হোম চালু হয়নি। একটি মহকুমা শহরের মতো উপ সংশোধনাগার রয়েছে। সেটি একশো বছরের পুরনো। স্বদেশি আন্দোলনের সময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আটক করে এখানে সাময়িক রাখা হত। তারপর মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে স্থানান্তর করা হত।
তমলুক আদালত চত্বরে অবস্থিত উপ সংশোধনাগারে এখন ১৬২জনের থাকার মতো পরিকাঠামো রয়েছে বলে রবিবার জেলার তথাগতবাবু জানিয়েছেন। যদিও এদিন মোট ২৩০জন ছিল। তাদের মধ্যে বিশিষ্ট লেখক তথা কংগ্রেস নেতা মানিক ফকিরও রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২২০-২৩০জন বন্দি থাকছে এখানে। জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। যেকারণে এধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বেশি। আবার, মাদক কেস, গার্হস্থ্য হিংসার মতো ঘটনাও আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ছে। জেলার সব মাদক কেস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে স্পেশাল কোর্টে তোলা হয়। অভিযুক্তদের তমলুক উপ সংশোধনাগারে রাখা হয়। বিচারাধীন এবং জেল হেপাজত হওয়া বন্দি সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
নিমতৌড়িতে পুলিশ লাইন সংলগ্ন ডিস্ট্রিক্ট কারেকশনাল হোম তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩০০জন বন্দির থাকার মতো পরিকাঠামো থাকা ওই সংশোধনাগার এখনও কারা দপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়নি। কবে চালু হবে সেটাও নিশ্চিত হয়। এই অবস্থায় অনেকেই চাইছেন, পুরনো জেলখানা অবিলম্বে তুলে দিয়ে নিমতৌড়িতে ওই সংশোধনাগার চালু হোক। অন্যথায় বন্দিদের দুর্দশা মিটবে না।