সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: আবারও বেফাঁস দিলীপ ঘোষ! এবার স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের মেমারিতে তিনি বললেন, ‘আঠারো বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।’ তাঁর মন্তব্যে তোলাপাড় রাজ্যের শিক্ষামহল। সরগরম নেট দুনিয়াও। নিন্দার ঝড় উঠছে সর্বত্র। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, ইতিহাসের চর্চায় শ্যামাপ্রসাদকে ফিরিয়ে আনতে আদাজল খেয়ে নেমেছে বিজেপি। অথচ, তাঁর সম্পর্কে নেতারাই কতটুকু জানেন, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন দিলীপবাবুর মন্তব্য। কারণ, শ্যামাপ্রসাদ দেশের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কোনোভাবে আঠারো বছর বয়সে নয়, ৩৩ বছর বয়সে। পাশাপাশি এদিন, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও মুখ খুলেছেন দিলীপবাবু। রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিক্ষোভ হলেও তাঁর সাফ কথা—‘অন্নপূর্ণ যে সকলেই পাবেন না, এটা একেবারে নিশ্চিত।’
এদিন পঞ্চায়েতমন্ত্রী মেমারিতে এসেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে। সঙ্গে ছিলেন দলীয় নেতা তথা শিক্ষাবিদ সায়ন্তন বসু, কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু প্রমুখ। ওই অনুষ্ঠানে সায়ন্তনবাবুর সামনেই তিনি বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ তখন ইংরেজিতে এমএ করে নিয়েছেন। তারপর তাঁর বাবা তাঁকে বলেন তোমাকে বাংলায় এমএ করতে হবে। বাবার কথা শুনে তিনি সেটাই করলেন। তাঁকে দেখাদেখি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকেই ভর্তি হয়েছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন। পরে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভাইস চ্যান্সেলার হয়েছিলেন। এটাও একটা বিশ্বরেকর্ড। শ্যামাপ্রসাদ পড়াশোনায় ভালো ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিত যুক্ত হন।’ এদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যাকে তাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষকদের স্ত্রীরাও প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছিলেন। সেটা এখন আর হবে না। যাদের সত্যিই প্রয়োজন আছে, তাদেরকে দেওয়া হবে। তার জন্য স্ক্রুটিনি চলছে। তবে, আমি এটা বলতে পারি, সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবে না, এটা নিশ্চিত।’
দিলীপবাবু এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতেও মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদের মানুষ যদি ভোট না দেয়, তা হলে কি জ্ঞানেশ কুমার দায়ী? হেরে গিয়ে কখনও তারা ইভিএমকে আবার কখনও কমিশনকে দায়ী করছে। এসব করে লাভ নেই। বিরোধীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।’ সায়ন্তনবাবু বলেন, নির্বাচন কমিশন তার কাজ করেছে। এসআইআর নিয়ে বারবার চ্যালেঞ্জ হয়েছে। আদালত কখনও এসআইআর বন্ধের কথা বলেনি। সাংবিধানিক পদের উপর আক্রমণ করা ঠিক নয়।’ মেমারিতে শাসকদলের গৃহযুদ্ধ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বারবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। এদিনও সেই গৃহযুদ্ধের প্রভাব পড়েছে অনুষ্ঠানে। এলাকার বিধায়ক সহ অনেক নেতা-কর্মী মঞ্চমুখো হননি। যদিও বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানটির আয়োজক একটি সংগঠন। তাই তারা কাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, সেটা তাদের ব্যাপার। তবে, এসব ছাপিয়েও এদিন মেমারি সরগরম ছিল শ্যামাপ্রসাদকে দিলীপবাবুর মন্তব্যকে ঘিরে।