নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অস্তিত্ব সংকটে আমতলার প্রাচীন ফুটবল ক্লাবের মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জমে জল। আগাছায় ভরেছে চারপাশ। গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে খেলাধুলো বন্ধ। অভিযোগ, এই মাঠ দখলেরও অনেক চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তায় সেটা আটকানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আজ এই মাঠ ও ক্লাবের গৌরব হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এই ফুটবল ক্লাবের পুনরুজ্জীবনের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৩ সালে। তার রেজিস্ট্রেশন হয় ১৯৭৮ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মাঠে নিয়মিত খেলাধুলো চলতো। কিংবদন্তি একাধিক খেলোয়াড় এই মাঠে পা রেখেছেন বলে দাবি ক্লাব কর্তৃপক্ষের। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে পিটার থঙ্গরাজ, এমনকী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাবা চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায় এই ময়দানে ক্রিকেট খেলে গিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়াও সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট লেগেই থাকতো। বিকেল হলেই আশপাশের এলাকার যুবক যুবতীদের ভিড় জমতো এই মাঠেই। কিন্তু এখন সেসব ইতিহাস। মাঠটি এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গোলপোস্টগুলিতে মরছে ধরেছে। শেওলা পড়ে জল কালো হয়ে গিয়েছে। ক্লাবের সম্পাদক সুদীপ সাহা বলেন, ২০১৯-এর পর থেকে এই মাঠে আর কোনো খেলাধুলা হয়নি। মাঝে ২ বছর করোনার জন্য সব বন্ধ ছিল। কিন্তু তারপর পরিস্থিতির স্বাভাবিক হলেও আর কিছু হয়নি। অনেকে এই মাঠ দখল করার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু তা রুখে দেওয়া গিয়েছে। বর্তমানে মাঠের যা অবস্থা তাতে সরকার সাহায্য না করলে সেটি আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব না। বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিশ্বর নস্কর সহ ব্লক প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে বলে ক্লাব সূত্রে খবর। কর্তৃপক্ষের দাবি, মাঠ পুনরুদ্ধার করতে যে খরচ, তা ক্লাবের কাছে নেই। তাই সরকারি উদ্যোগে যা করার করতে হবে। নিজস্ব চিত্র