নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে যেতে পারছেন না মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পাশাপাশি তাঁকে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউস থেকে জোর করে বের করে দেওয়া এবং হেনস্তার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব চাইল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ।
গত ১৪ আগস্ট রাতে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সাংসদ অভিযোগ করেন, কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে তাঁর জন্য ঘর বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন রাতেই তাঁকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করে। হেনস্তাও করা হয়। এনিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকেও চিঠি দেন মহুয়া। এদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রের পক্ষে সওয়ালে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, এই আবেদনের বিষয়ে তাঁরা জবাব দাখিল করবেন। তখন আদালত নির্দেশ দেয়, এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে। এরপর আরও এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারী তাঁর পালটা জবাব দাখিল করতে পারবেন। এদিকে, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলায় আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মহুয়া মৈত্রের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, রক্ষাকবচ থাকলেও, তদন্ত চলবে। তদন্তে সহযোগিতাও করতে হবে সাংসদকে। আগামী ১৩ জানুয়ারি মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠবে আদালতে।
অন্যদিকে সম্প্রতি নিজ লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগর ডিমবর্ষণের শিকার হন মহুয়া। তেহট্টের হাউলিয়া পার্ক মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে সম্প্রতি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। অভিযোগ, তাঁর যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে বিজেপির কয়েক জন কর্মী-সমর্থক হাজির হন। তা নিয়েও নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন মহুয়া।
মহুয়ার আর্জির প্রেক্ষিতে এর আগে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকতে হবে সাংসদের নিরাপত্তায়। নিজ সংসদীয় এলাকায় ওই নিরাপত্তা পাবেন সাংসদ। এদিন আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই নিরাপত্তা বহাল থাকবে মহুয়ার।