Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে স্পিকারের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট, অভিষেকের করা মামলায় নোটিস সুদীপ-কাকলিদেরও

তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদকে নিয়ে কী অবস্থান নিচ্ছেন? সুপ্রিম কোর্টে তা জানাতে হবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে।

বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে স্পিকারের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট, অভিষেকের করা মামলায় নোটিস সুদীপ-কাকলিদেরও
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদকে নিয়ে কী অবস্থান নিচ্ছেন? সুপ্রিম কোর্টে তা জানাতে হবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদারদের মতো ২০ বিদ্রোহী সাংসদকেও দিতে হবে জবাব। জারি করা হল নোটিস। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ। দু’ সপ্তাহ পর হবে শুনানি। সুপ্রিম কোর্টের এদিনের এই নির্দেশের ফলে রাজনৈতিক মহলে চড়ছে কৌতুহলের পারদ। তবে কি তৃণমূলের টিকিটে জিতে এখন এনসিপিআই’তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের লোকসভার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে? 

Advertisement

সুপ্রিম কোর্ট লোকসভার স্পিকারের পাশাপাশি সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য জানাতে বলায় মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির আশার আলো দেখছে। অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের বাইরে বলেন, ‘এ তো সবে শুরু। এরপর আমরা বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে নামব। দেখি কত শক্তি আছে ওঁদের?’ অন্যদিকে, বিবাদীদের পক্ষে কাকলি ঘোষদস্তিদার তাঁদের নোটিস ইস্যু প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘মহামান্য আদালতকে আমরা আমাদের অবস্থান জানাব।’ 
এদিন ছিল মামলার প্রথম শুনানি। গোড়ায় বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ বিবাদী ২২ জনের নামেই নোটিস ইস্যুর নির্দেশ দিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু খবর পে঩য়েই কার্যত দৌড়ে প্রধান বিচারপতির এজলাসে ঢুকতে দেখা যায় দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে। অনুনয়-বিনয় করে তিনি বললেন, ‘অনুগ্রহ করে লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে নোটিস ইস্যু করবেন না। তিনি সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। তাছাড়া আমি তো এখানে তাঁর হয়ে সওয়াল করতে হাজির। ফলে আর নোটিস ইস্যুর প্রয়োজন নেই।’ পালটা কল্যাণবাবু বলেন, ‘নোটিসে কীসের আপত্তি? আদালত যখন নোটিস ইস্যুর কথা বলেছে, সেটাই থাক।’ যদিও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, ‘মিঃ ব্যানার্জি, আপনি কি নোটিসে আগ্রহী? নাকি মূল মামলার নিষ্পত্তিতে? সলিসিটর জেনারেল যখন এসেই গেছেন, তখন আমরা নোটিস ইস্যু করছি না। তবে স্পিকারের ‘রেসপন্স’ জানতে চাইছি। বাকিদের নোটিস ইস্যু করা হচ্ছে।’ 
সুদীপ, কাকলি, শতাব্দী, রচনা, সায়নীর মতো ২০ জন তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়েছেন ২০২৪ সালে। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে জিতে বিজেপি বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আচমকাই তাঁরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দেন। তাই ওই ২০ জনের সদস্য পদ খারিজের দাবিতে গত ১৯ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দেন অভিষেক। জবাব না পেয়ে পরবর্তীকালে ফের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি দেখে বিষয়টির হেস্তনেস্ত করতে সোজা সুপ্রিম কোর্টে স্পিকারের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেন অভিষেক। ওই ২০ জনকেও বিবাদী করা হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ