জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মহাজোট, ‘ইন্ডিয়া’-র দায়ের করা মামলাকেই অগ্রাধিকার দিল সর্বোচ্চ আদালত
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’। এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা। এছাড়াও যন্তরমন্তরে ধরনায় নিষেধাজ্ঞা, সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা, মহিলা সাংবাদিকদের উপর পুলিশি হেনস্তার মতো ৪৬টি মামলার একসঙ্গে শুনানি হয়েছে বৃহস্পতিবার। জারি হয়েছে নোটিসও। পরবর্তী শুনানির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট অগ্রাধিকার দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’র আবেদনটিকেই। আগামী ২৭ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমার সহ বাকি দুই কমিশনারের নামে দায়ের করা সেই মামলাটি শোনা হবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার অনেক রাতে ‘অর্ডার’ আপলোড করেছে শীর্ষ আদালত। সেখানেই কোন মামলা কবে শোনা হবে, তা জানানো হয়েছে। মামলাগুলিকে আলাদা আলাদা করার জন্য দু’জন নোডাল অফিসারও নিয়োগ করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সৌগত রায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, এম এ বেবি, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলের মতো বিজেপি বিরোধী ১৩ জন নেতানেত্রীর দায়ের করা মামলাটি এর আগে নভেম্বর মাসে শোনার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। কিন্তু প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নিজেদের নির্দেশে জানিয়েছে, শুনানি হবে ২৭ অক্টোবর। ফলে জ্ঞানেশ কুমারকেও এই মামলার ব্যাপারে জবাব দিতে হবে সেই তারিখের মধ্যেই। 
যন্তরমন্তরে ধরনা-বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বর্বর আচরণের অভিযোগ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাগুলির শুনানি হবে নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ। মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশের অশ্লীল আচরণের অভিযোগের পরবর্তী শুনানি ৫ নভেম্বর। আগামী ১৯ নভেম্বর হবে দিল্লিতে বিক্ষোভ রুখতে বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা প্রয়োগ এবং বিএনএনএসের ১৭২ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা বিষয়ক মামলার শুনানি। ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে ১৪৪ ধারাটিই মোদি সরকারের নতুন আইন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতায় (বিএনএনএস) ধারা ১৬৩। এই ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় কোনো হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয় সুপ্রিম কোর্ট। যদিও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি পরবর্তী শুনানির আগে পেশ করতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে যাবতীয় মামলায় নোটিস গ্রহণ করেছিলেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড (এওআর) ডঃ বিশাখামূর্তি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার আগেই হৃদরোগে প্রয়াত হন তিনি। আদালত এ ব্যাপারে দুঃখপ্রকাশ করে অন্য কাউকে এওআর করার অনুমোদন দিয়েছে। আবার তিন মাসের অন্তঃসত্তা এক সাংবাদিককে গত ১২ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিলে রাহুল গান্ধী ধাক্কা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলাও শুনতে রাজি হয়েছে শীর্ষ আদালত।