নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ পুরোটা অর্থাৎ ছ’টি স্তবকই না গাওয়ার অপরাধে জেল-জরিমানার মতো ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত নয়। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানির পর্যবেক্ষণে এমনটাই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এ ব্যাপারে মোদি সরকারের কাছে চাওয়া হল জবাব। দু সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে জবাব দিতে হবে। কর্ণাটকের এক সঙ্গীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণা সুপ্রিম কোর্টে বন্দে মাতরম ইস্যুতে কেন্দ্রের নতুন সংশোধিত আইনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দে মাতরম বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দেওয়া, কিংবা বিঘ্ন সৃষ্টি করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা দুটোই হতে পারে। আবেদনকারী এই অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শেষের চার স্তবকও আবশ্যিক গাইতে হলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার উপর প্রভাব পড়বে। এভাবে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
এদিন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে ছিল প্রথমদিনের শুনানি। সেখানই পুরনো এক মামলার রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘জাতীয় গীত’ কী হবে? সেটি দুটি স্তবক নাকি, চারটি বা অন্য কোনও সংখ্যা, তা সেটা আমাদের বিচার্য বিষয় নয়। আদালত দেখবে জাতীয় গীত না গাওয়ার জন্য কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত-অনুচিতের বিষয়। ‘বিবেকগত কারণে ‘বন্দে মাতরমে’র সব স্তবক না গাইলেই তাকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করা উচিত নয়। তবে এ ব্যাপারে কেন্দ্রের কী বক্তব্য, সেটা আমরা লিখিতভাবে জানতে চাই। তিনি আরো বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫১-এ’তে জাতীয় গানের উল্লেখ নেই। তবে প্রচলিত রীতি ও ব্যবহারের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় গীত হিসাবে বোঝা হয়েছে—বিশেষত প্রথম দুই স্তবক।
শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবী এস মুরলীধর বলেন, সংশোধিত আইনে জাতীয় গীতের সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়নি। অথচ সেটিকে কেন্দ্র করে ফৌজদারি শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এতে আইন অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও তার বিরোধিতা করেন আদালতে উপস্থিত কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা এত সংকীর্ণ হতে পারে না। তাছাড়া ‘নকশালদের ধারণা’ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন হতে পারে না। যেই না একথা বলা, তীব্র আপত্তি করেন আবেদনকারীর আইনজীবী মুরলীধর। বলেন, সলিসিটর জেনারেলকে মন্তব্যটি প্রত্যাহার করতে হবে। একজন ল’ অফিসারের মুখে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার উপযুক্ত নয়। বিষয়টি নিয়ে বেঁধে যায় বাকবিতণ্ডা। তুষার মেহতা বলেন, আমি যা বলেছি, তা প্রত্যাহার করব না। আমি তাঁদের কথাই বলেছি, যারা আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করেন না। আবেদনকারীর আইনজীবী কেন বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে গায়ে মাখছেন? উভয়ের বিতণ্ডা বাড়তে থাকার আগেই সামাল দিল সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিল, ঠিক আছে আপাতত কেন্দ্রকে নোটিস ইস্যু করা হচ্ছে।