হাইকোর্টে বড় ধাক্কা সুজিতের, জামিনের আরজি খারিজ, পুজো কাটবে শ্রীঘরেই
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পালাবদলের পর বঙ্গে দুর্গাপুজো। তবে বাকি বছরের মতো এই পুজো খুব সুখকর হল না সুজিত বসুর। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীর জামিনের আবেদন আজ মঙ্গলবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে দীর্ঘ শুনানির পরও স্বস্তি পেলেন না সুজিত। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করা হল তা স্পষ্ট করে জানাননি বিচারপতি।

Advertisement

সুজিত বসুর জামিনের মামলাটি প্রথমে উঠেছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। কিন্তু শুনানি পর্বের শেষে বিচারপতির একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, সুজিতের আইনজীবীরা বিচারপতির ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে একটি ফাইল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার পর মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। পরবর্তী সময়ে মামলাটি যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। সেখানেই প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর দাবি, পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ছয় লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলেও আদালতে দাবি করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৮.৮ কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর অ্যাকাউন্টেই নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও কয়েক কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছিল ইডি। 

উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে চাকরির সুপারিশ করার অভিযোগ ওঠে। এই মামলার তদন্তে গত ৬ এপ্রিল থেকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বের মধ্যেও একাধিকবার তাঁকে তলব করে ইডি। তবে নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে হাজিরার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতের নির্দেশ মেনে ভোটপর্ব চলাকালীন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরা দেননি তৃণমূল নেতা। নির্বাচন শেষ হতেই অবশ্য তদন্তে যোগ দেন সুজিত বসু। দফায় দফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির আধিকারিকরা। পাশাপাশি তাঁর বাড়ি ও অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ জেরার পর অবশেষে ১১ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের অভিযোগ, দমদম পুরসভায় শতাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এই নিয়োগের পিছনে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনও হয়েছিল বলে দাবি ইডির।