নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: দুর্গাপুজোর ভিড় মানেই শ্রীভূমি। আর শ্রীভূমি মানেই সুজিত বসু! ক্লাবের সঙ্গে তাঁর নামটি যেন সমার্থক হয়ে উঠেছিল। যাঁরা শ্রীভূমি ক্লাব তৈরি করেছিলেন তাঁদেরই নাকি বের করে দেওয়া হয়েছিল। তাই পালাবদলের পর এবার বদল শ্রীভূমিতেও। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এখন জেলে। তাহলে শ্রীভূমির পুজো কি এবার হচ্ছে না? এমনই গুঞ্জন চলছিল। কিন্তু, শ্রীভূমির মাঠে কাঠামো তৈরি হতেই পুজোর গন্ধ পাচ্ছেন এলাকার মানুষ। তৈরি করা হয়েছে শ্রীভূমির নতুন কমিটি। তা থেকে বাদ স্বয়ং সুজিতই! এবার পুজোর দায়িত্বে থাকছেন আবাসিকরাই। প্রতিবার রথযাত্রার দিনই খুঁটিপুজো হত। সেই রীতি অবশ্য বজায় থাকল। আজ, শ্রীভূমির খুঁটিপুজো। তবে ‘সুজিতহীন’।
মহালয়ার দিনই শ্রীভূমির পুজোর উদ্বোধন হয়ে যেত। তা নিয়ে অবশ্য বিতর্কের অবকাশ ছিল না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরপর দুবার মহালয়ার দিন উদ্বোধন করে গিয়েছিলেন। তবে বলা হত—‘উৎসব উৎসারিত সূচনা’। এবার অবশ্য সেসব বাদ দিচ্ছেন আবাসিকরা। শ্রীভূমির নতুন কমিটির সভাপতি কনক দেবনাথ বলেন, এলাকার আবাসিকরাই সুজিতকে বাদ দিয়েছেন। সভাপতি করেছেন তাঁরা আমাকে। আমরা সকলে মিলে শ্রীভূমি ক্লাব তৈরি করেছিলাম। অথচ, পরবর্তী সময়ে আমাদেরকেই বের করে দেওয়া হয়েছিল! সুজিত একাই দখল করে রেখেছিলেন।
কনক বলেন, পুজোর নামে এখানে একমাস ধরে এখানে আবাসিকদের উপর ‘অত্যাচার’ করা হত। এবার আমরা উৎসব করব না। সত্যিকারের পুজো করব। যেটা বহু বছর হয়নি। বৈভব নয়, মাতৃ আরাধনাই করব আমরা। ঠাকুর এনে পঞ্চমীতে পুজো শুরু হবে। পাঁচ-ছয় দিনের পুজো—যেটা শাস্ত্রসম্মত। নতুন কমিটিতে মহিলাদেরও রাখা হয়েছে। তবে, পুজো বড়ো করেই হবে। পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে থিমসহ বিস্তারিত জানানো হবে।