সংবাদদাতা, করিমপুর: রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় স্কুলগুলি সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছে। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, সিলিন্ডার পিছু গ্যাসের দাম ৫০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানে মিড ডে মিল চালানো কঠিন হয়ে যাবে। মিড ডে মিলে কবে কী খাওয়ানো হবে, তার একটি তালিকা সরকার স্কুলগুলিকে দিয়েছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন ডিম ও বাকি দিনগুলিতে সব্জি ও ডাল দিয়ে পড়ুয়াদের ভাত খাওয়ানোর কথা। মিড ডে মিলের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের সরকারি বরাদ্দ ৬ টাকা ১৯ পয়সা। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাথাপিছু বরাদ্দ ৯ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। কিন্তু, এখন রান্নার গ্যাসের যা দাম তাতে মাথাপিছু গ্যাসের পিছনেই প্রায় দু’টাকা চলে যাবে। ফলে বাচ্চাদের খাবারের উপরে তার প্রভাব পড়বে।
করিমপুর জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজতকুমার সরকার বলেন, স্কুলে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচশো ছাত্রছাত্রী মিড ডে মিল খায়। গ্যাসেই ওই খাবার রান্না হয়। আগের চেয়ে চালের দামও বেড়েছে। এখন আনাজ ও মশলাপাতির দামও বেশ চড়া। এর মধ্যে গ্যাসের সিলিন্ডার পিছু দাম ৫০ টাকা বেড়ে গেল। স্কুলে মিড ডে মিল রান্নার জন্য প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ছ’টি গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। সেক্ষেত্রে এখন থেকে বেশকিছু টাকা বাড়তি খরচ হবে।
সীমান্তবর্তী হোগলবেড়িয়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের এক শিক্ষক বলেন, এই স্কুলের মোট পড়ুয়া সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। চেষ্টা করা হয় যত বেশি সম্ভব পড়ুয়াদের ভালো মানের খাবার দেওয়া। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকার এই স্কুলের প্রায় ৮৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী দুপুরে স্কুলে মিড ডে মিল খায়। বাজারে চাল, ডাল, কিংবা অন্যান্য মুদি দ্রব্যের দাম অনেকটা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে সব্জির দামও। তার মধ্যে এখন আবার রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় মিড ডে মিলের খরচ সামলানো কষ্টকর হয়ে যাবে।
একই সমস্যার কথা জানান বেড় রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামপদ বাড়ুই। তিনি বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় কয়েক মাস আগে সরকার বরাদ্দ সামান্য বাড়িয়েছিল। আবার গ্যাসের দাম বেড়ে গেল। প্রতি মাসে গ্যাসের জন্য বেশি টাকা খরচ হবে। এখন গ্যাসের দাম অনুপাতে বরাদ্দ না বাড়ালে আগের সমস্যা আবারও ফিরে আসবে।