স্কুলশিক্ষকের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা, বিপদে পড়া স্যরকে সাহায্য করে ঠকল ছাত্র
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: স্কুলের স্যার বিপদে পড়ে টাকা চাইছেন। মোবাইলের ম্যাসেঞ্জারে এমন ম্যাসেজ পেয়েছিল পাত্রসায়রের নাড়িচা সর্বমঙ্গলা হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র রফিক মল্লিক। অতএব যেভাবে হোক স্যারের বিপদে পাশে দাঁড়াতেই হবে। তাই নিজের কাছে টাকা না থাকলেও বন্ধু বান্ধবদের কাছে ধার করে টাকা পাঠিয়ে নিজেই সাইবার প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে। যে স্যারের উদ্দেশ্যে টাকা পাঠিয়ে আজ বিপদে পড়েছে রফিক, সেই স্যারের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চাওয়া হয়েছিল। আর তাতেই প্রতারিত হতে হয়েছে। অবশেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্র উভয়েই সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পরিচিতদের কাছে বিপদে পড়ার নাম করে টাকা চাওয়ার ঘটনা বহু ঘটছে। যাচাই না করেই কেবল মেসেজের উপর বিশ্বাস করে টাকা পাঠাচ্ছে। তারাই বিপদে পড়ছে। এব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বারেবারে সচেতন করা হচ্ছে।  বিষ্ণুপুরের প্রকাশ গ্রামের বাসিন্দা তথা নাড়িচা সর্বমঙ্গলা হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোপালচন্দ্র পাল বলেন, আমার ছবি ও নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আমার ছাত্র, বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয়দের কাছে ম্যাসেঞ্জারে মেসেজ করে টাকা চাওয়া হয়। ইউপিআই কাজ করছে না। জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি আমি জানতাম না। আমার এক প্রাক্তন ছাত্র ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর আমি জানতে পেরেছি। ওই ছাত্র প্রতারকদের পাঠানো স্ক্যানারে তিনবারে মোট ৩৪০০টাকা পাঠিয়েছিল। পরের দিন নাকি আমার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। সেই জন্যই ওই ছাত্রটি আমাকে ফোন করে। সাইবার ক্রাইম বিভাগের পাশাপাশি পুলিশের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।  প্রতারিত যুবক রফিক মল্লিকের বাড়ি বিষ্ণুপুর থানার পাতলাপুর গ্রামে। তিনি বলেন, আমি গত বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে বর্তমানে ট্রাক্টর চালকের কাজ করি। শুক্রবার আমার স্কুলের ইংরেজির স্যার গোপালবাবুর ছবি দেওয়া একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। আমি তা অ্যাকসেপ্ট করি। তারপরেই ম্যাসেঞ্জারে খুব প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চাওয়া হয়।  এমনকি, পরের দিনই ফেরত দিয়ে দেবেন বলে জানানো হয়। স্যার টাকা চাইছেন। তিনি নিশ্চয়ই বিপদে পড়েছেন। তাই সাত পাঁচ না ভেবে বন্ধুদের কাছে হাত পাতি। আমার নিজের ইউপিআই নেই। তাই বন্ধুদের ইউপিআই থেকে তিন বারে পুরো টাকা পাঠাই। কিন্তু, টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তা না পেয়ে স্যারকে ফোন কজর। তারপরেই জানতে পারি স্যার আমাকে এরকম কোনো মেসেজ করেননি। তারপর বুঝতে পারলাম আমি প্রতারিত হয়েছি। তারপর সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

Advertisement