পুলিশের সামনেই জোরালো প্রতিরোধ, মিছিল করে বই বিক্রি সিপিএমের
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বারাসত ও বারাকপুর: বামেদের স্টলগুলিতে হামলা বেড়েই চলেছে। ষষ্ঠীর রাত থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে স্টল তুলে দেওয়া অভিযোগ তুলছে বামেরা। সপ্তমীর সন্ধ্যায় যাদবপুরে সিপিএমের স্টলে বিশাল পুলিশ বাহিনী চলে আসে। বামেদের অভিযোগ, বুলডোজার নিয়ে আসা হয়েছিল স্টল ভাঙার জন্য। স্টলে আক্রমণের ঘটনার নিন্দা করেছেন মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

Advertisement

আবার বারাসতের চাঁপাডালি মোড়, কলোনি মোড়, দমদমের নাগেরবাজারে বিজেপির লোকজনের বিরুদ্ধে স্টল ভাঙার অভিযোগ করেছেন বাম নেতারা। বামেদের অভিযোগ, বারাসতের চাঁপাডালি মোড়ে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে দিতে স্টল ভাঙা হয়েছে। যদিও বিজেপি বলেছে, এসবই তাঁদের নামে কুত্সা ছড়ানো হচ্ছে। বামেদের আরও অভিযোগ, এদিন সকালে কলকাতার ঢাকুরিয়ায় সিপিএম, সিপিআই ও সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের স্টল কর্পোরেশন ও পুলিশ এসে ভেঙে দেয়। কিন্তু পাশে বিজেপিপন্থীদের স্টল অক্ষত ছিল। আবার এসইউসিআইয়ের অভিযোগ, ঢাকুরিয়ার বাবুবাগান এলাকায় পুলিশ এসে তাদের স্টল ভেঙে দিয়েছে। কেষ্টপুর এলাকায় তাদের বই খালের জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে এদিন সন্ধ্যায় আচমকাই যাদবপুর এইটবিতে সিপিএম ও লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন আইসার স্টলে পুলিশ ও কর্পোরেশনের লোক এসে পৌঁছয়। সিপিএম নেতা সুদীপ সেনগুপ্ত পুলিশের কাছে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যা ইচ্ছা করে নিন, আমরা স্টল বন্ধ করব না। যাদবপুরে গিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। সুজন বলেন, বাংলার পরিবেশকে এইভাবে বিষিয়ে দেওয়া আসলে বাংলার মানুষের বিরোধিতা করা। সরকারের কাজ কি পুজোয় অশান্তি করা? তিনি পুলিশকে বলেন, আপনারা এখানে স্টল ভাঙার কোনো কাগজ নিয়ে এসেছেন কি? এই বচসার মধ্যেই আচমকা একটি বুলডোজার এসে যায়। সেটি যদিও বাম কর্মী-সমর্থকরা আটকে দেন।
এদিকে, এদিন সকালে বাঁশদ্রোণী, রিজেন্ট পার্ক থানায় সিপিএমের তরফে মিছিল করে বই বিক্রি করা হয়। এছাড়া শনিবারও বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের বুক স্টল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নৈহাটি বিধানসভার জেটিয়া এবং গরিফায় শুক্রবার গভীর রাতে স্টলগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যায় নাগেরবাজারে এবিভিপির সমর্থকদের সঙ্গে সিপিএম কর্মীদের সংঘাত হয়েছে। সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, বিজেপি’র দুষ্কৃতীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। যারা বইকে ভয় পায়, তারাই বুক স্টল ভেঙে দিচ্ছে। মানুষ এর জবাব দেবে।