


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে চলতি সপ্তাহে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে ঝড়বৃষ্টি চলবে। তবে তার মাত্রা কমবে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণবঙ্গে আগামী ১০ মে এবং উত্তরবঙ্গে ৯ মে পর্যন্ত একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। আজ দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ জেলার কোথাও কোথাও বেশি মাত্রার ঝড়বৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা আজ দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে কয়েকদিন একাধিক জেলায় ‘হলুদ’ সতর্কতা থাকছে। সোমবার রাত পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি হয়। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে জোরালো হাওয়া বয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানের বার্নপুরে সবথেকে বেশি ৭০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। হুগলির বাগাটি ও নদীয়ার কল্যাণীতে ৫০ মিমি, বীরভূমের রামপুরহাটে ৪০ মিমি, আসানসোলে ৪০ মিমি, উত্তর ২৪ পরগনার দমদমে ৩০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন জায়গায় ২০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে কালিম্পংয়ের ঝালং ও জলপাইগুড়ির ঘাটিয়া চা বাগানে বৃষ্টি হয়েছে সর্বাধিক ১০০ মিমি।
সোমবার রাতে মালদহে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৫ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড় হয়। ঘণ্টায় ৪০ কিমি বেগের আশপাশে জোরালো হাওয়া বয়েছে কলকাতা ছাড়া হাওড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু জায়গায়। কলকাতায় অবশ্য মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে অল্পই, প্রায় ৩ মিমি। তবে রাতের বৃষ্টি ও সকালে কিছুটা মেঘলা পরিবেশের জন্য কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩০.৪ ডিগ্রি) স্বাভাবিকের থেকে ৪.৬ ডিগ্রি কম ছিল। ভোরবেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (২২.০) ছিল স্বাভাবিকের থেকে ৪.১ ডিগ্রি কম।