Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে হানা এসটিএফের, বাজেয়াপ্ত কোকেন

শেক্সপিয়র সরণি এলাকার এক নামি হোটেলে রেভ পার্টিতে অভিযান চালিয়ে কোকেনের হদিশ পেল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ

হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে হানা এসটিএফের, বাজেয়াপ্ত কোকেন
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেক্সপিয়র সরণি এলাকার এক নামি হোটেলে রেভ পার্টিতে অভিযান চালিয়ে কোকেনের হদিশ পেল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। সল্টলেকের একটি অভিজাত পরিবারের এক সদস্যের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল সেখানে। সেই উপলক্ষ্যেই রেভ পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। ওই পার্টিতেই নিষিদ্ধ কোকেন সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এসটিএফ রবিবার ভোরের দিকে ওই হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করেছে ৬ গ্রাম কোকেন ও বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এমডিএমএ মাদক। এই নেশার সামগ্রী কোথা থেকে আনা হয়েছে, তা জানতে হোটেলের কর্মী সহ পার্টিতে হাজির সবাইকেই ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উপস্থিত সকলের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কোকেন সরবরাহকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

কয়েকদিন আগেই কোকেন সরবরাহ করতে এসে পার্ক স্ট্রিট থানার হাতে ধরা পড়ে এক যুবক। তাকে জেরা করে অফিসাররা জানতে পারেন, পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়র সরণি এলাকার বিভিন্ন হোটেলের পার্টিতে কোকেন ও নিষিদ্ধএমডিএমএ মাদক ব্যবহার করা হয়। শনিবার গভীর রাতে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের কাছে খবর আসে, শেক্সপিয়র সরণি এলাকার একটি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে কোকেন আনা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ধনী পরিবারের সন্তানরা। সেইমতো রবিবার ভোরের দিকে সেখানে হানা দেয় এসটিএফের টিম। পুলিশ আসার খবর পেয়েই সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেন পার্টির আয়োজক ও আমন্ত্রিতরা। তদন্তকারীরা ওই রুমে গিয়ে দেখেন কেউ নেই। তল্লাশির সময় হোটেলের বাথরুম থেকে কোকেন ও এমডিএমএ উদ্ধার হয়। পার্টির জন্য কারা হোটেল বুক করেছিলেন, সেই তথ্য জোগাড় করেন তদন্তকারীরা। জোগাড় করা হয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। ফুটেজ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ঘন ঘন বাথরুমে ঢুকছে-বেরচ্ছে। কেউ কেউ আবার হলের মধ্যেই কোকেন নিচ্ছে। ফুটেজ দেখে আয়োজক ও আমন্ত্রিতদের চিহ্নিত করা হয়। জানা যায়, তাঁদের বাড়ি সল্টলেকে। খবর পেয়ে আসেন বিধাননগর কমিশনারেটের অফিসারররা।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই হোটেলে প্রায়ই রেভ পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানে কোকেন নেওয়া চলে। হোটেলের কর্মীরাই কোকেন সরবরাহ করে থাকে। আবার পার্টির আয়োজকরা নিজেদের উদ্যোগেও মাদক নিয়ে আসেন বলে জানা যাচ্ছে। কারা এখানে কোকেন সাপ্লাই করতে আসে, তাদের মধ্যে শনিবার কেউ কোকেন দিতে এসেছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে এসটিএফ। একইসঙ্গে তাঁদের ধারণা, পার্টির আয়োজক ও আমন্ত্রিতদের মধ্যে কারও কোকেন সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে। সেই কারণে আমন্ত্রিতদের মোবাইল পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, কল রেজিস্টারে কোনো মাদক কারবারি রয়েছে কি না। যদি নাম থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই হোটেলে কখন কোকেন ডেলিভারি করতে এসেছিল, তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। আবার হোটেলের কোনো কর্মীও মাদক সরবরাহ করে থাকতে পারে। তাই তাঁদেরও জেরা করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ