সীমার মধ্যে থাকুন,  পুলিশকে তোপ দিলীপের
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ‘সীমার মধ্যে থাকুন, অতিসক্রিয় হবেন না!’ কিছুদিন খড়্গপুরে দুষ্কৃতীরাজ দমনে পুলিশি দাওয়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মাঝে ঘটে যায় খড়্গপুর পুরসভা দখল নিয়ে তুমুল ঝামেলা। আর তা সামলাতে বিজেপির একাংশ কর্মীর উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ পুলিশের। তাতেই বেজায় চটে গিয়ে নিজেদের সরকারের পুলিশকে ‘অতিসক্রিয়’ না হওয়ার পরামর্শ মামলা করারও হুমকি দিয়েছেন দিলীপ। যা নিয়ে তোলপাড় পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। পুলিশের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর এহেন নজিরবিহীন আক্রমণের নেপথ্যে বিজেপির অন্দরে গোলমালের ছায়া দেখছে সিপিএম ও কংগ্রেস।      

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে খড়্গপুরের একটি চা চক্রে যোগ দিয়েছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। সেখানে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘খড়্গপুরে অতিসক্রিয় হয়ে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। সিভিল ড্রেসে মহিলাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হবে।’ পাশাপাশি বিদ্রোহী তৃণমূলের পুরবোর্ড গড়তে পুলিশ ফের সক্রিয়তা দেখালে, আরও বড় জনরোষ সংগঠিত হবে বলেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ। 
সোমবার পুর-চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘিরে তেতে ওঠে খড়্গপুর। পুরসভার গেট আটকে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। জখম হন দু’পক্ষের অনেকেই। পরে পুলিশের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে বিজেপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ। সেই প্রসঙ্গেই দিলীপ এদিন বলেন, ‘খড়্গপুরে আগে কোনওদিন লাঠি চলেনি। পুলিশ এত আক্রমণাত্মক হয়নি। আমাদের কর্মীরা ভেবেছিল, সরকার পাল্টেছে, হয়তো পুলিশ ভালো ব্যবহার করবে। কিন্তু, পুলিশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল সেদিন। তার উপর দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে কেসও করা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করব।’ রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেদিন সিভিল ড্রেসে মহিলাদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে! আমাদের কর্মীরা তার প্রতিবাদ করেছে। তারা কি করে বুঝবে, তৃণমূল লোকেরাও তো লাঠি চালাতে পারে। পুলিশের এত সক্রিয় হওয়ার দরকার নেই। নিজের সীমার মধ্যে পুলিশ থাকুক।’
পঞ্চায়েতমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে জেলা যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি মহম্মদ সাইফুলের কটাক্ষ, ‘গত সপ্তাহেই পুলিশের গায়ে হাত দেওয়া নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিলীপবাবু নিজেও দিনকয়েক আগেই পুলিশকে প্রয়োজনে গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। তাই বলে বিজেপি কর্মীদের উপর যে পুলিশ এভাবে লাঠিচার্জ করবে, তা হয়তো তিনি আশা করেন নি! অতঃপর, দিলীপবাবুর এহেন ক্ষোভের কারণ রাজনৈতিক সচেতন সব মানুষই বুঝতে পারছেন।’  সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন রায় বলেন, ‘খড়্গপুরে দিলীপবাবুর ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতাদের ভালোই আদর করেছে পুলিশ!’ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি চিরঞ্জীব ভৌমিক বলেন, ‘চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘিরে খড়্গপুরে আসলে বিজেপিরই দুই শীর্ষ নেতার ছায়া-যুদ্ধ চলছে। প্রদীপবাবুরা কেবল দাবার বোড়ে ব্যবহৃত হচ্ছেন।’ 
বিজেপির একাংশের খড়্গপুর পুরসভা দখলের চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, পালাবদলের পর দিলীপবাবুর পরামর্শেই পুরসভা চালাচ্ছিলেন কল্যাণী ঘোষ। কল্যাণীদেবীর অপসারণে তাই ক্ষুব্ধ দিলীপবাবু। সে কারণেই হয়তো ঋতব্রত-তৃণমূলের প্রদীপ সরকারকে চেয়ারম্যান মানতে রাজি নন দিলীপবাবু সহ খড়্গপুরের বিজেপি নেতা ও কাউন্সিলারদের একাংশ। তাই তাঁরা এখন প্রশাসক বসাতে চাইছেন। এদিন পঞ্চায়েতমন্ত্রীও বলেন, ‘যিনি (প্রদীপবাবু) এখন চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য লড়াই করছেন, তাঁকেও অযোগ্যতার জন্য সরে যেতে হয়েছিল।’ প্রদীপবাবু অবশ্য বলেন, ‘আমরা দিলীপবাবুকে মাথায় রেখেই এগোতে চেয়েছিলাম। এখনও তাই চাইছি।’