নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উপকূল এলাকায় এবার ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাবে। যাতে জলপথে বিস্তীর্ণ এলাকার একটা বড় অংশ কভার করা যায়। মূলত জলপথ ধরে বিদেশি কোনও হাজাজ ঢুকে পড়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে কিনা সেটা জানাই টার্গেট রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের। সেকথা মাথায় রেখেই দশটি ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ অনুমোদনও হয়ে গিয়েছে। দ্রুত এগুলি হাতে আসার ব্যাপারে আশাবাদী কর্তারা।
জলপথের একটা বড় অংশই অরক্ষিত। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে রাজ্য পুলিশেরপেক্ষে উপকূলবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো সম্ভব হয়না কোস্টাল থানাগুলির পক্ষে। হোভারক্রাফ্ট থাকলেও তাতে তেলের একটা সমস্যা রয়েছে। নির্দিষ্ট বরাদ্দের বাইরে বেশি তেল পাওয়া সম্ভব নয়। যে কারণে অত্যন্ত হিসেব কষে এগুলিকে চালাতে হয়। অথচ পূর্ব মেদিনীপুর,দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকা নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জলপথ ধরে অনায়াসেই বাংলাদেশ থেকে আসা সম্ভব। এই পথেই জঙ্গিদের রাজ্যে ঢুকে পড়ার একটা আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ট্রলারদের উপর জলদস্যুরা মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়। বিস্তীর্ণ এই অংশ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল পুলিশ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ড্রোন কেনা হবে। যাতে থাকবে এআই ক্যামেরা। ফলে অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে। শুধু দিনের বেলা নয় রাতেও যাতে ড্রোনে নজরদারি চালানো যায় তার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের বক্তব্য ড্রোন উড়িয়ে অনেরকটা এলাকা তাঁরা কভার করে নিতে পারবেন। এতে তেলের খরচ যেমন বাঁচবে, সেরকম ওই এলাকার ছবিও পাওয়া যাবে। বিশেষত বিদেশি কোনও জাহাজ বা ট্রলার দাঁড়িতে থাকতে দেখলে তা ধরা পড়বে ড্রোন ক্যামেরায়। তার ভিত্তিতে হোভারক্রাফ্ট নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরেবেন কোস্টাল থানার অফিসাররা। সেই কারণে দশটি ড্রোন কেনার প্রস্তাব যায় নবান্নে। ইতিমধ্যেই তাতে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রশাসসিক দপ্তর। এরজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অফিসাররা। দ্রুত তা কিনে উপকূলের বিভিন্ন থানাকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি এগুলি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে পুলিশ কর্মীদের।।



