Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / এই মুহূর্তে

নির্যাতন ও জেলা পরিষদের দুর্নীতি নিয়ে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজ্য পুলিশ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের কর্মধ্যক্ষ জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। কী ঘটছে? বিস্তারিত পড়ুন।

নির্যাতন ও জেলা পরিষদের দুর্নীতি নিয়ে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজ্য পুলিশ
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মধ্যক্ষ থাকাকালীন একের পর দুর্নীতি করে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলেও টাকা বেরিয়ে গিয়েছে জেলা পরিষদের কোষাগার থেকে। সেই টাকা ঘুরপথে চলে এসেছে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ এই নেতার কাছে। এনিয়ে কোনো তদন্তই হয়নি এতদিন। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, সালিশি সভা বসিয়ে বিচারের নামে নিরীহ মানুষের উপর অকথ্য নির্যাতনের যেসব অভিযোগ রয়েছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, সেগুলি নিয়েও আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।

Advertisement

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গির ফলতা বিধানসভা এলাকায় আবাস যোজনা থেকে ১০০ দিনের কাজ—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি করেছেন। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, বহু ক্ষেত্রে আবাস যোজনার ঘর তৈরি হয়েছে বলে দেখানো হলেও সেখানে কিছুই করা হয়নি। অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, যেখানে আবাসের ঘর তৈরির কথা বলা হয়েছে, সেখানে বাস্তবে রয়েছে বড়ো পুকুর! অভিযোগ, সরকারি এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য নথি জাল করেছেন জাহাঙ্গির। আবার আসল প্রাপকদের কাছ থেকে নথি নিয়ে তাঁদের টাকা নিজেই তুলেই নিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করেও টাকা তুলেছেন বলে জানা যাচ্ছে। জাহাঙ্গির নিজেই জেরায় জানিয়েছেন, কোনো সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা নিতে  গেলে তাঁকে মোটা টাকা কাটমানি দিতে হত। কাটমানি আদায় নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে থানা থেকে ফোন করে তাঁকেই জানিয়ে দেওয়া হত বিষয়টি। এরপর অভিযোগকারীকে বাড়িতে ডেকে বিদ্যুতের শক দিয়ে সবক শেখাতেন এই নেতা। জমানা বদলের পর এই অভিযোগেরও তদন্ত শুরু হয়েছে।
ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশের অফিসাররা জেনেছেন, ২০২৩ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মধ্যক্ষ হন জাহাঙ্গির। সেই সময় রাস্তা নির্মাণ, হাটবাজার সংস্কার, নতুন হাট তৈরি, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতিসহ একাধিক প্রজেক্ট পাশ হয়েছে তাঁর মাধ্যমে। যদিও কোনো কাজই হয়নি। বিগত তিন বছর ধরে এই সমস্ত খাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন ঠিকাদারকে বলা হয়েছিল, ভুয়ো বিল তৈরি করে জেলা পরিষদ অফিসে জমা দিতে হবে। ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা আসার পর তা চলে গিয়েছে জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। কারা কারা এসব প্রকল্পের বরাত পেয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। 
তদন্তে আরও উঠে আসছে, থানায় অভিযোগ এলে সেটি জানিয়ে দেওয়া হতো জাহাঙ্গীরকে। তখন অভিযোগকারীকে ডেকে পাঠিয়ে জাহাঙ্গির বিচারসভা বসাতেন নিজের বাড়িতে। সেখানেই বিদ্যুতের শক দেওয়া থেকে শুরু করে উলটো করে ঝুলিয়ে পেটানোর ঘটনা সামনে আসছে। যাঁদের উপর এই অমানুষিক নির্যাতন চলেছিল, তাঁদের বয়ান রেকর্ড করে তদন্ত নতুন করে শুরু করা হচ্ছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ