নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্কওয়েবে ফাঁস হওয়ার ঘটনা সামনে এল। তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাংক নিজেই স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া বিবৃতিতে এই তথ্য ফাঁসের কথা স্বীকার করেছে। এসবিআই জানিয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর তাদের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস প্রোভাইডার, প্রতিরক্ষা সাইবার এজেন্সি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (সিইআরটি-ইন) কাছ থেকে সতর্কবার্তা আসে, ব্যাংকের গ্রাহকদের তথ্য ডার্কওয়েবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ডার্কওয়েবে প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার রেকর্ড পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে ৩ হাজার ৮৯৭টি রেকর্ডে গ্রাহকদের একেবারে ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে ব্যাংক। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের নাম, নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, ইমেল আইডি, বাড়ির ঠিকানা, ব্রাঞ্চের নাম, সিআইএফ (কাস্টমার ইনফরমেশন ফাইল) নম্বর, লিড আইডি এবং লোন সংক্রান্ত মেটাডেটা। তবে ব্যাংকের দাবি, যে তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাতে অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যালান্স, পাসওয়ার্ড, ওটিপি, কার্ডের তথ্য বা আধার-প্যানের মতো সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য নেই। তবুও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেটুকু তথ্য বাইরে বেরিয়েছে, তা দিয়েই প্রতারণা সম্ভব। নাম, মোবাইল, ঠিকানা ও সিআইএফ নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংকের নামে ভুয়া কল (ভিশিং) বা মেসেজ (স্মিশিং) করে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়বে। এই ঘটনার পিছনে ‘সিরিউসিম’ নামে এক হ্যাকার গ্রুপের দাবি সামনে এসেছে। গত ১৯ অক্টোবর ওই গ্রুপ দাবি করে, তাদের কাছে স্টেট ব্যাংকের ৩.৭৫ লক্ষ তথ্যের পাশাপাশি ২ হাজার ৭২২টি পিডিএফ নথি চলে এসেছে, যার মধ্যে ঋণের আবেদন ও অ্যাকাউন্ট খোলার নথিও আছে।
এসবিআই জানিয়েছে, তারা দ্রুত সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স প্রোটোকল চালু করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। তথ্যের সত্যতা, উৎস এবং ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকের দাবি, এই ঘটনায় তাদের মূল পরিষেবা, আর্থিক কাজকর্ম বা ব্যবসায় কোনো প্রভাব পড়েনি। সমস্ত পরিষেবাও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন এই প্রতারণার কথা ব্যাংক নিজে জানতে পারল না? বাইরের সংস্থা যখন দাবি করেছে এই তথ্য ফাঁসের কথা, ব্যাংক তখন তা খতিয়ে দেখেছে এবং তথ্য ফাঁসের কথা স্বীকার করেছে। এখনো ৩ হাজার ৮৯৭ জন গ্রাহককে তাঁদের তথ্য ফাঁসের কথা ব্যক্তিগতভাবে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।



