Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ঘণ্টা চুক্তিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের কাজের অফার, সরকারি হাসপাতালে কর্মী-সংকট, আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের

প্রয়োজনীয় কর্মী নেই। এক ওয়ার্ড থেকে অন্য বিভাগে রোগীদের কোলে তুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে পরিবারের লোকজনদেরই

ঘণ্টা চুক্তিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের কাজের অফার, সরকারি হাসপাতালে কর্মী-সংকট, আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রয়োজনীয় কর্মী নেই। এক ওয়ার্ড থেকে অন্য বিভাগে রোগীদের কোলে তুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে পরিবারের লোকজনদেরই। কখনো কখনো ট্রলি ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দৃশ্য প্রতিদিনই দেখা যায়। তবে শুধু বর্ধমান নয়, অধিকাংশ হাসপাতালে একই ছবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে আউট সোর্সিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে গ্রুপ ডি কর্মী বা টেকনিসিয়ান তৃতীয় পক্ষ থেকে নেওয়া হবে। প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের সরকারি হাসপাতালে কাজ করার অফার দেওয়া হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে ঘণ্টায় তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। অন্যান্য বিভাগেও কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটবে সরকার।

Advertisement

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্ধমানে এসে বলেন, স্থায়ী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হবে না। তড়িঘড়ি নিয়োগ হবে না। পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে কর্মী নিয়োগ হবে। প্রয়োজন হলে ততদিন আউট সোর্সিং করা হবে। যে সমস্ত চিকিৎসক বাইরে প্র্যাকটিস করেন, তাঁদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সরকারি হাসপাতালে কাজে লাগানো হবে। এক আধিকারিক বলেন, ইতিমধ্যে প্রসেস শুরু হয়ে গিয়েছে। কর্মী বা চিকিৎসক নিয়োগ না করলে হাসপাতালগুলিতে উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। এক সময় চিকিৎসকরা হাসপাতালে নিজেদের মর্জিমতো ডিউটি করতেন। এখন সেটাও হবে না। বায়োমেট্রিক চালু হয়েছে। চোখের ছবি দিয়ে উপস্থিতি জানান দিতে হবে। যাঁরা নিয়মিত হাসপাতালে আসবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আউটডোরে প্রতিদিনই ভিড় উপচে পড়ছে। দুই বর্ধমান ছাড়াও অন্যান্য জেলার রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন। ওয়ার্ডগুলিতেও বেড পাওয়া দায় হয়ে উঠেছে। সেই তুলনায় কর্মী নেই। কেতুগ্রামের বাসিন্দা অনন্ত দাস বলেন, ছেলের ডান পা ভেঙে গিয়েছিল। অপারেশনের পর ওকে অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে হয়েছিল। হাসপাতালে কোনো কর্মী ছিলেন না। আমরা দু’জন মিলে ওকে অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে গিয়েছি। বয়স্ক রোগীদেরও পরিবারের লোকজনরা ট্রলিতে ঠেলে ইসিজি বা অন্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। গ্রুপ ডি কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো দরকার। আরএক রোগীর আত্মীয় বোল্ডার শেখ বলেন, হাসপাতালে বড়ো বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। জুনিয়ার চিকিৎসকরাই ভরসা। বিশেষ করে রাতের দিকে সিনিয়র চিকিৎসকদের দেখাই যায় না। এই বিষয়টির দিকেও সরকারের নজর দেওয়া উচিত। সব বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক থাকলে রোগীদের ভাল হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ