


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামী ৭সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ৩৫টি ভেনুতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষকেন্দ্রে সশস্ত্র পুরুষ ও মহিলা পুলিসকর্মী মোতায়েন থাকছে। সেন্টারে ঢোকার মুখে চেকিংয়ের জন্য থাকছে মেটাল ডিটেক্টর। প্রত্যেক ভেনুর ১০০মিটার এলাকাজুড়ে ১৬৩ধারা জারি করবেন সংশ্লিষ্ট মহকুমার এসডিও। ভেনুতে মেডিক্যাল টিম রাখার জন্য মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে পর্যাপ্ত পুলিসফোর্স রাখার জন্য পুলিস সুপারকে বলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আগামী ৭সেপ্টেম্বর জেলায় ৩৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ২১হাজার ২৫৫জন চাকরিপ্রার্থী নবম ও দশম স্তরের মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দেবেন। জেলার মোট পাঁচটি এরিয়ায় ৩৫টি পরীক্ষাকেন্দ্র রেডি করা হয়েছে। কাঁথিতে ন’টি, এগরায় পাঁচটি, হলদিয়ায় পাঁচটি, পাঁশকুড়ায় তিনটি এবং তমলুকে ১৩টি পরীক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে। ২১হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দেবেন। কাঁথিতে ৫৭৫০জন, এগরায় ৩৩০০জন, হলদিয়ায় ২৮৮০জন, পাঁশকুড়ায় ২২৭০জন এবং তমলুকে ৭০৫৫জন চাকরিপ্রার্থী স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া ১৪সেপ্টেম্বর একাদশ ও দ্বাদশ স্তরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হবে। ওইদিন পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৩১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। কাঁথিতে মোট আটটি পরীক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে। সেখানে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২৫০জন। এগরায় চারটি কেন্দ্রে ২৭০০জন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। হলদিয়ায় মোট পাঁচটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২৮৮০জন পরীক্ষা দেবেন। পাঁশকুড়ায় মোট তিনটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ৬০৪৫জন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তমলুকে ১১টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ৬০৪৫জন শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬সালের পর ন’বছর বাদে এরাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬সালে নিয়োগপত্র পাওয়া ২৬হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার প্যানেল বাতিল হয়েছে। দাগি নন এমন শিক্ষকরা এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এছাড়াও ফ্রেশাররা এই পরীক্ষায় বসছেন। যোগ্য শিক্ষকদের একটা বড় অংশ এই পরীক্ষার বিরুদ্ধে। তাঁদের বক্তব্য, যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর ফের কেন পরীক্ষা দিতে হবে? তাই পরীক্ষার দিন যাতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও পুলিসের পক্ষ থেকে এই পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন যাতে বিদ্যুৎ বিঘ্ন না হয় সেজন্য বণ্টন সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দমকলকেও প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার দিন যাতে রাস্তায় পর্যাপ্ত বাস, ট্রেকার থাকে সেজন্য উদ্যোগী হতে আঞ্চলিক পরিবহণ অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা গ্রামোন্নয়ন অফিসার দেবদুলাল বিশ্বাসকে অফিসার ইনচার্জ(এগজামিনেশন) করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভেনু ইনচার্জদের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, ৭সেপ্টেম্বর মোট ৩৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ২১হাজার ২৫৫জন এবং ১৪সেপ্টেম্বর ৩১টি ভেনুতে মোট ১৯হাজার ১৪৫জন এসএসসি পরীক্ষা দেবেন। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।