রিয়াধ: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার এক হিন্দু নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল সৌদি আরবের আদালত। দীর্ঘ কূটনৈতিক এবং আইনি আলোচনার পর ওই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল সৌদির সুপ্রিম কোর্ট। শ্রীলঙ্কার তরফে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই আনোজন শিবারসা নামে ওই যুবক সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করতেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। সেই সময় শ্রীলঙ্কায় হিন্দুদের তীর্থযাত্রা চলাকালীন কুকুরকে লাথি মারাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি হিন্দুদের দেবতাদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করে। তার পালটা শিবারসাও তামিল ভাষায় মুসলিম ধর্ম নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সেই মন্তব্য ডিলিট করে ক্ষমাও চেয়ে নেন। কিন্তু তার মধ্যেই ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট শ্রীলঙ্কা থেকে ই-মেল করে কেউ সৌদি আরবে শিবারসার সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেয়। সৌদি প্রশাসনের তরফে এর পরেই শিবারসার ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। ১৫ জুলাই আল-আহসার আদালত ওই যুবকের পাঁচ বছরের কারাবাস ও তিন মিলিয়ন সৌদি রিয়াল জরিমানার নির্দেশ দেয়। পরে সেই নির্দেশ বদলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই শ্রীলঙ্কার ৬ জন তামিল ও মুসলিম সাংসদ সৌদির বিদেশমন্ত্রীকে চিঠি লিখে শিবারসাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানান। এছাড়া দ্বীপরাষ্ট্রের শীর্ষ হিন্দু ও বৌদ্ধনেতারাও বিষয়টি নিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের দ্বারস্থ হন। কলম্বোর তরফে এই নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। সৌদি আরবে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত দাম্মামে শিবারসার সঙ্গে দেখাও করেন। ১১ অক্টোবর সৌদি সুপ্রিম কোর্টে মৃতুদণ্ড রদের আবেদন করা হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়।



