৬ পড়ুয়াকে বহিষ্কার ঘিরে উত্তাল এসআরএফটিআই, ‘আন্দোলন দমনে’ বন্ধ প্রতিষ্ঠান, হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আরও একবার অশান্ত সত্যজিত্ রায়  ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)। তবে এবার ‘বহিরাগত শক্তি’র জন্য নয়। উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পড়ুয়ারা। অশান্তির শুরু সেখানেই। বৃহস্পতিবার পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগ করেন উপাচার্য। তারপরই ছ’জন পড়ুয়াকে তিনি ২টি সেমেস্টারের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। শুক্রবার পড়ুয়ারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু ক্যাম্পাসের ভিতর সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পড়ুয়ারা গেটের ভিতর থেকেই কথা বলেন।

Advertisement

সন্ধ্যায় পড়ুয়ারা জানতে পারেন, ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি জারি হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পড়ুয়াদের ক্যাম্পাস খালি করার নির্দেশও। এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়া নচিকেত বলেন, ‘ক্যাম্পাস খালি করার অর্ডারে তারিখ ১৫ অক্টোবরের। আর আমাদের কাছে তা পৌঁছেছে ১৬ অক্টোবর। অর্থাত্, ২৪ ঘণ্টা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। আমাদের আন্দোলন থামানোর জন্য এই পন্থা নেওয়া হয়েছে।’ এই প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ পড়ুয়াই বাইরের রাজ্যের। ফলত, আচমকা এই নোটিস পেয়ে তাঁরা দিশাহীন। কম সময়ের মধ্যে কীভাবে তাঁরা টিকিট পাবেন, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। পড়ুয়াদের স্পষ্ট বক্তব্য, এভাবে হঠাত্ করে বললেই আমরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাব না। 
এদিন সকালে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, উপাচার্য যে নিগ্রহের অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। বহিষ্কার হওয়া পড়ুয়া অ্যারন বলেন, ‘এই উপাচার্যকে আরএসএস নিয়োগ করেছে। আমাদের ছাত্র সংসদ অরাজনৈতিক। আমাদের সঙ্গে কোনো দলের যোগ নেই। আমরা স্লোগান দিয়েছি, জয় ভীম বলেছি, তাই এই আক্রমণ নেমে এসেছে আমাদের উপরে।’ পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, দু’বার বিজেপি-আরএসএসের লোকজন এসে ক্যাম্পাসে আক্রমণ করেছে। উপাচার্য একবারের জন্যও সে বিষয়ে কথা বলেননি। এমনকি, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের উপরেও তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেন। 
উপাচার্য অভিযোগ করেছিলেন, আন্দোলনের নামে তাঁর দপ্তর ভাঙচুর করা হয়েছে। এসি ও জলের পাইপ কেটে দেওয়া হয়েছে। এদিন পড়ুয়ারা পালটা বলেন, আমাদের ছাত্র সংসদ নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে অবগত রেখেই হয়েছে। আমাদের সঙ্গে গোটা প্রতিষ্ঠানের সকল পড়ুয়া রয়েছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, বেছে বেছে দলিত, আদিবাসী পড়ুয়াদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিন দেখা যায়, এসআরএফটিআইয়ের মূল ফটকের উপরে ওয়েল্ডিং করে কাঁটা তার দেওয়া হয়েছে। ফলে মূল ফটকের উচ্চতা আরও খানিক বেড়েছে। কিন্তু পড়ুয়ারা এই উপাচার্যের ইস্তফার দাবিতে অনড়। পুজোর পর তাঁরা আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াবে বলেই খবর।                    -নিজস্ব চিত্র