


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেপো রেট কমানোর সম্ভাবনা নেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। কারণ, অনুমানের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির হার আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা। পাঁচ রাজ্যের ভোটের কারণে ভারতের সরকারি তেল সংস্থাগুলি এখনই পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়াচ্ছে না। কিন্তু সরকারি ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে যে, ওই ভোটপর্ব মিটলেই পেট্রল, ডিজেলের দাম বেড়ে যাবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর এরকমই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। অশোধিত তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশ ছুঁয়েছিল। রাশিয়ার তেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ব্রেন্ট অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়। কিন্তু যতক্ষণ উত্তরপ্রদেশের ভোটপর্ব না মেটা পর্যন্ত পেট্রল ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ভোটপ্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই বছরের এপ্রিল মাসেই বাড়িয়ে দেওয়া হয় পেট্রপণ্যের দাম।এবারই সেই একই পরিস্থিতি। ইরানে যুদ্ধের জেরে অশোধিত তেলের দাম বেড়ে চলেছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটের মুখে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে আমজনতাকে চটাতে চাইছে না মোদির সরকার। সংসদ ভবনে কংগ্রেস, তূণমূল, সমাজবাদী পার্টির সকলেই বলেছেন, ভোট মিটলেই দাম বাড়বে। এদিকে প্রথমসারির বণিকসভাগুলির সূত্রে সরকার জানতে পারছে, দেশের ভোগ্যপণ্য উৎপাদন সংস্থাগুলি পণ্যের খুচরো দাম বৃদ্ধি করতে উদগ্রীব। সেইমতোই প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধের জেরে বহু কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়েছে। সেই আর্থিক চাপ সামলাতে না পেরে গাড়ি শিল্প ইতিমধ্যেই একথা জানিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, এই মাসেই গাড়ির দাম বাড়তে পারে। একাধিক সংস্থাই সেই পথে হাঁটবে। চরম লোকসান হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ায়। গত আর্থিক বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার লোকসান করেছে এই সংস্থা। প্রথম ৯ মাসের তুলনায় লোকসানের হার বিগত তিন মাসে বেশি। কারণ পশ্চিম এশিয়ার উড়ান অনিশ্চিত হয়েছে জানুয়ারি থেকেই। মূল্যবৃদ্ধির হার বিপুল বাড়তে চলেছে বলে শিল্প -বাণিজ্য মহল থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। একবার পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে বস্তুত মূল্যবৃদ্ধির বাঁধ খুলে যাবে। এই আবহেই রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর আগামী বৃহস্পতিবার নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন।