Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬

শারদ-স্ট্যালিন কি বিল পাশে সাহায্য করবেন মোদি-শাহকে, জল্পনা, ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠক এনসিপির

শারদ পাওয়ার ও এম কে স্ট্যালিনের সিদ্ধান্তে মোদির বিল পাশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। রাজনৈতিক মহল তাকিয়ে। বিস্তারিত পড়ুন।

শারদ-স্ট্যালিন কি বিল পাশে সাহায্য করবেন মোদি-শাহকে, জল্পনা, ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠক এনসিপির
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনে ভারতীয় রাজনীতির আকর্ষণীয় বাঁক বদল হতে চলেছে? অন্তত সেরকমই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এপ্রিল মাসে বাজেট অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিল ও ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে না পারাটা ছিল নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের কাছে বড়োসড়ো পরাজয়। ১২ বছরে বিরোধী জোটের কাছে সংসদীয় কোনও প্রক্রিয়ায় এই প্রথম এনডিএ এমন ধাক্কা খেল। দুই-তৃতীয়াংশ এমপি জোগাড় করার ব্যর্থতাতেই এই হার। ২০ জুলাই শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। এই অধিবেশনে আবার ওই দুই বিল নিয়ে আসবে সরকার। আর সেই বিল এবার যেনতেনপ্রকারেণ পাশ করাতে মোদি সরকার মরিয়া। সেই কারণেই বিগত মাসগুলিতে দেখা গিয়েছে একের পর এক রাজ্যে অপারেশন লোটাস। উদ্ধব থ্যাকারে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সক঩লের দল অস্তিত্ব সঙ্কটে। উদ্ধব থ্যাকারে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁদের দলের সংখ্যাগত শক্তিই নেই। কিন্তু এত কিছু করেও কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা অধরা মোদির কাছে। তাই শারদ পাওয়ারের এনসিপি এবং এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে পরবর্তী টার্গেট। এই দুই দলের অবস্থানের উপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতি কোনদিকে যাবে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে মুম্বইয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বাড়িতে শারদ পাওয়ার গোষ্ঠীর এনসিপি বৈঠক করেছে। তারপরই শারদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে বুধবার বলেছেন, ডিলিমিটেশন বিল আমরা সমর্থন করতে পারি। তবে আমাদের শর্ত আছে। প্রত্যেক রাজ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ করে আসন বাড়বে এই নিশ্চয়তা বিলের মধ্যে রাখতে হবে। তিনি একথা বললেও, এই দাবি নতুন নয়। এপ্রিল মাসে একই দাবি রেখেছিল বিরোধীরা। কিন্তু সুপ্রিয়া সুলে বলেছেন, আমরা দলের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। এনসিপি কি এনডিএ জোটে চলে যাচ্ছে? তিনি বলেন, এসব নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। যদিও জল্পনা জোরদার যে, এবার এনসিপি যাবে এনডিএ-তে। অন্যদিকে ডিএমকে কী করবে? শনিবার ১৯ জুলাই স্ট্যালিন বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। বস্তুত এই দুই দলের সিদ্ধান্ত কী হবে, সেদিকে গোটা রাজনৈতিক মহল তাকিয়ে। কারণ, এই দুই দলের হাতে আছে ৩০টি লোকসভা আসন। এই দুই দল এনডিএকে বিল পাশের সময় সমর্থন দেবে? নাকি ভোটদানে বিরত থাকবে? নাকি অনুপস্থিত থাকবে? তিনটি বিকল্পই বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেবে। শিবসেনার উদ্ধব থ্যাকারে গোষ্ঠীর ছ’ জন দলবদল করা এমপি, তৃণমূলের ২০ জন এমপি এপ্রিল মাসে সরকারের বিরুদ্ধে এই বিল দুটিতে ভোট দিয়েছিল। তারাই এবার ভোট দেবে বিজেপির আনা বিলের পক্ষে। এখনও এনডিএ জোটের দিকে না যাওয়া ডিএমকে ও এনসিপি (শারদ পাওয়ার) কী করবে সেটাই দেখার। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ