


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় দেশের নোংরাতম শহরের তকমা পেয়েছিল হাওড়া শহর। তবে শুধু হাওড়া নয়, কঠিন বর্জ্য সমস্যায় জর্জরিত কার্যত গোটা রাজ্যই। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গকে আবর্জনামুক্ত রাখতে বড়ো পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সিদ্ধান্ত হয়েছে, একটি নতুন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এলাকায় জমে থাকা জঞ্জালের ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলেই, এক থেকে দু-ঘণ্টার মধ্যে আবর্জনা পরিষ্কার করবে সংশ্লিষ্ট পুরসভা। এই ছবি তোলামাত্রই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জিও ট্যাগিং হয়ে যাবে। অর্থাৎ, কোন জায়গায় জঞ্জাল পড়ে আছে তার নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখা ও অক্ষরেখাও দেখিয়ে দেবে অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাঠানো এই ছবি। ফলে সংশ্লিষ্ট পুরসভা আবর্জনা জমে থাকার দায়ও এড়াতে পারবে না।
রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের এই নয়া উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কাজ ফেলে রাখা যাবে না। আমি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত এই অ্যাপ চালু করার নির্দেশ দিয়েছি।
পুরদপ্তর ছাড়াও নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরেরও মন্ত্রী তিনি। ফলে নারীসুরক্ষার লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষার জন্য যে হেল্পলাইন নম্বর আছে সেই নম্বরটিকেই উইমেন সেফটি কল সেন্টার হিসেবে যুক্ত করা হবে। আবার পুর পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্যও একটি হেল্পলাইন চালু হবে বলেও জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
অন্যদিকে, রাজ্যের শহর এলাকায় পার্কিং সমস্যায় ইতি টানতেও তৎপর হয়ে উঠেছে পুরদপ্তর। রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকা থেকেই রাস্তার উপর বেআইনি পার্কিং লট চালানোর অভিযোগ আসে। ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে যার রমরমা বেড়েই চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাস্তার দু-ধারে পার্কিং বরদাস্ত করা হবে না বলেই এদিন পুরমন্ত্রী জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ভুয়ো পার্কিং স্লিপ ব্যবহার করে টাকা তোলার বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পূর্ব রেলের তরফেও বিশেষ স্বচ্ছতা অভিযান শুরু হচ্ছে। এটার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে, ‘স্বচ্ছতা অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন, ফেজ ২’। আগামীকাল শনিবার ১৬ মে থেকে তা শুরু হচ্ছে। তাতে বলা হয়েছে, স্টেশন চত্বরে বা প্লাটফর্মে কোথাও কোনো নোংরা-আবর্জনা পড়ে থাকলে যাত্রীরা ছবি তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠাতে পারেন। ৩০ মিনিটের মধ্যেই সেই জঞ্জাল সাফাই হয়ে যাবে।