নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুলের ভিতরে সহপাঠীকে পেনসিল কাটার দিয়ে আঘাত। বুধবার সাউথ পয়েন্টে স্কুলে এই ভয়াবহ ঘটনার জেরে এবার গড়িয়াহাট থানার দ্বারস্থ হলেন আহত পড়ুয়ার মা। তিনি অভিযুক্ত পড়ুয়ার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত পড়ুয়া অটিজমে আক্রান্ত। তাই এখনই অভিযোগ নথিবদ্ধ করেনি পুলিশ। সূত্রের খবর, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে গড়িয়াহাট থানা। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অটিজম আক্রান্ত পড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রুজু করা হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
বুধবার সকালে নবম শ্রেণির ক্লাস চলাকালীন সহপাঠীকে পেনসিল কাটার দিয়ে কোপ মারে অভিযুক্ত পড়ুয়া। অভিযোগ, মঙ্গলবার তাকে বই দেওয়া-নেওয়া নিয়ে উত্ত্যক্ত করেছিল তার ওই সহপাঠী। সেই আক্রোশের বশেই কি এই হামলা? বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। আক্রান্ত ওই ছাত্রের বাড়ি হাওড়ার শিবপুরে। স্কুল কর্তৃপক্ষই ওই ছাত্রকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ওইদিনই তার অস্ত্রোপচার হয়। শুধু গলা নয়, তার বাঁ হাতের তালু ও আঙুলেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের দাবি, স্কুলের মনোবিদ বুধবার অভিযুক্ত পড়ুয়াকে কাউন্সেলিং করেন। ওই রিপোর্ট পুলিশকে জমা দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। ওই রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সহ ঘটনার বিবরণ জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে জমা দেবেন তদন্তকারী আধিকারিক। আগামী সপ্তাহে সেই রিপোর্ট জমা পড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পড়ুয়াকে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাকে আলাদাভাবে নিরাপদে রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন স্কুলের মনোবিদ।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার অস্ত্রোপচারের পর আহত নবম শ্রেণির ওই পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে। কয়েকদিন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রেখে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এদিন ওই ঘটনা সম্পর্কে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, ওই ছাত্র স্কুলে হঠাৎ পেনসিল কাটার নিয়ে গেল কেন? স্কুলে বই ছিঁড়ে দেওয়ার ঘটনা তো হরদম হয়ে থাকে। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম, তখন এমন ঘটনা বহু ঘটেছে। কিন্তু, তার প্রভাবে এত বড়ো ঘটনা অনভিপ্রেত। এই ধরনের ঘটনায় পড়ুয়া ও অভিভাবকদের ট্রমাগ্রস্ত হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি সমাজতত্ত্ববিদদের আহ্বান জানাচ্ছি, তাঁরা যেন এই ঘটনা রুখতে স্কুল শিক্ষা দপ্তরকে উপদেশ দেন।