সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য পানীয় জল নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব রেল বড়োসড়ো পদক্ষেপ নিয়েছে। রেলের অধীনস্থ সব স্টেশনে জল সরবরাহ ব্যবস্থার প্রাপ্যতা, গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। শনিবার দক্ষিণ- পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের তরফে বিষয়টি নিয়ে জানানো হয়। রেলের তরফ থেকে অভিযানের আওতায় জলের উৎস, শোধন ও ফিল্ট্রেশন প্ল্যান্ট, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড জলাধার, পিভিসি ট্যাঙ্ক, ওয়াটার বুথ, কল এবং জল বিতরণ কেন্দ্রগুলির নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
রেল দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ - পূর্ব রেলের অধীনে মোট ২৪ হাজার ৩৩ টি জলাধার রয়েছে। যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৭ হাজার ৮০০টি জলাধার পরিষ্কার করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে অবশিষ্ট জলাধারগুলিরও সাফাই হয়েছে। পাশাপাশি জোনে থাকা মোট ৬৩টি ক্লোরিনেশন প্ল্যান্টের সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন হয়েছে। জলে যথাযথ ও পর্যাপ্ত ক্লোরিনেশন নিশ্চিত করতে ক্লোরিন ডোজিং নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা হয়েছে। যেসব এলাকায় কাঁচা জলে লোহার পরিমাণ বেশি, সেখানে থাকা ২৩টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্টের রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৫২টি প্রেসার/গ্র্যাভিটি ফিল্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার করা, জমে থাকা ময়লা অপসারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ফিল্টার উপাদান মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিভাগের সমন্বয়ে জলের গুণমান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী অবশিষ্ট ক্লোরিন মাত্রা পরীক্ষার জন্য ৩,৪১৩টি, ব্যাকটেরিওলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য ৩৩৪টি, রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ২১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় রক্ষণাবেক্ষণ ও লিকেজ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওয়াটার কুলার ও জল পরিশোধন ইউনিটগুলির জন্য একটি ব্যাপক বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি চালু রয়েছে। সংরক্ষণ জলাধারগুলির মাসিক ভিত্তিতে পরিষ্কার করা, ওয়াটার কুলার, কল, পাইপলাইন থেকে জল লিকেজ রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ফিল্ড স্টাফ রয়েছে। যাতে জলের অপচয় সর্বনিম্ন থাকে তা দেখা হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিন জলের উৎস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টিল, পিভিসি ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন, হ্যান্ডপাম্প, বোরওয়েল ব্যবস্থার নিয়মিত প্রতিরোধমূলক পরিদর্শন চলবে।