


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বালির ঘাট থেকে তোলাবাজির পর আইনের হাত থেকে রক্ষা পেতে মুরগি কেনাবেচার চালান ব্যবহার করত বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠর শাগরেদরা। মুরগির ব্যবসা সাধারণত নগদে হয়। তোলার টাকা নিয়ে ধরা পড়লে সেই নথি দেখালেই রক্ষা পাওয়া যায়। সেই কারণেই এমন কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। দুর্গাপুরের কোকওভেন থানায় বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠর এক সাগরেদের বিরুদ্ধে মুরগি কেনাবেচার চালান ছিনতাইয়ের অভিযোগ হয়েছে। গলসি থানা এলাকার এক মুরগি ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, বুদবুদের এক যুবক নিয়মিত তাঁর ফার্ম থেকে মুরগি কিনতেন। ৫ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সাড়ে ৮টার সময় ওই যুবক হঠাৎ করেই ফার্মে আসে। জোর জবরদস্তি বই থেকে কয়েকটি চালান ছিঁড়ে নেয়। প্রতিবাদ করলে ভয় দেখাতে থাকে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। সে বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠের নির্দেশে এই কাজ করেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। যদিও এই প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, পুলিশকে পুলিশের কাজ করতে বলুন। তৃণমূলের দালালি করবেন না।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই রেনেসাঁর কাছে থেকে বর্ধমান থানা দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। তাদের গাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ছ’ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। তারা জানায় বাঁকুড়ার ‘পাল’ এর নির্দেশেই তারা বালিঘাট থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। পাল নামে ওই ব্যক্তি বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁর ঘনিষ্ঠ বলেই পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, বালিরঘাট থেকেই ওই দু’জন টাকা নিয়ে যাচ্ছিল বলে তারা জেরায় স্বীকার করেছে। এই চক্রে আর যারা যুক্ত রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংসদ সৌমিত্র খাঁর ঘনিষ্ঠর একজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। যদিও সোমবার বর্ধমানের দলীয় কর্মসূচিতে এসে সৌমিত্র খাঁ বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জেনে গেল এই ঘটনায় বিজেপির নেতারা যুক্ত রয়েছে। ওঁকে তো নোবেল চুরির ঘটনার তদন্ত করতে দেওয়া দরকার।
সৌমিত্রবাবু এর আগে দাবি করেছিলেন, যাদের পুলিশ টাকা সহ গ্রেপ্তার করেছে, তারা মুরগির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের কাছে সেই নথিও রয়েছে। কিন্তু দুর্গাপুরের কোকওভেন থানায় মুরগির ব্যবসার চালান ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তিনি আর কিছু বলতে চাননি। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়েক দাস বলেন, কোকওভেন থানায় চালান ছিনতাইয়ের অভিযোগ হয়েছে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।